ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) আজ গুলশান নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ১৩তম কর্পোরেট সভায় একটি নয় সদস্যের steering committee গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কমিটি ৫২টি ওয়ার্ডে অবস্থিত ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ এবং জনসাধারণের স্থানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকি করবে।
কমিটির প্রধান কাজ হবে নিয়মিতভাবে এই সব স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং মাসিক প্রতিবেদন কর্পোরেশনের কাছে জমা দেওয়া। এছাড়া, কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা পার্ক, মাঠ বা জনস্থান দখল করা না যায় তা নিশ্চিত করা হবে।
DNCC প্রশাসক মোহাম্মদ আজাজের মতে, ঢাকার পার্ক ও খেলাধুলার মাঠগুলো বিভিন্ন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাব দেখা দেয়। এই বিভাজনই মূলত অবহেলা ও অনধিকারিক দখলের কারণ। তাই, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একত্রিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য steering committee গঠন করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয় যে, সাম্প্রতিক জরিপে DNCC-এর অধীনে মোট ১০৬টি পার্ক, মাঠ ও জনস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭টি সরাসরি DNCC-এর মালিকানায়, ১৭টি ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটি (NHA) এর অধীনে এবং বাকি স্থানগুলো বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মালিকানায় রয়েছে। কিছু মাঠ ও জনস্থান স্কুল ও কলেজের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
কমিটির গঠন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মধ্যে DNCC, NHA, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা থাকবে। এই সমন্বিত পদ্ধতি পার্ক ও জনস্থানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অনধিকারিক দখল রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কমিটি প্রতি মাসে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে, যেখানে পার্কের অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের কাজের অগ্রগতি এবং কোনো অনধিকারিক দখলের ঘটনা উল্লেখ থাকবে। এই রিপোর্ট কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া যায়।
DNCC প্রশাসক আজাজ আরও উল্লেখ করেন, পার্ক ও খেলাধুলার মাঠগুলো শহরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাশের স্থান। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এই স্থানগুলো দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে, যা শহরের পরিবেশগত ও সামাজিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই, steering committee-কে শক্তিশালী করে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি।
কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে DNCC আশা করে যে, পার্ক ও জনস্থানগুলোর ব্যবহারিকতা বৃদ্ধি পাবে, অবৈধ দখল কমবে এবং শহরের সব বাসিন্দা সমানভাবে এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। ভবিষ্যতে, এই ধরনের সমন্বিত তত্ত্বাবধানের মডেল অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও গ্রহণ করা হতে পারে, যা শহরের সবুজায়ন ও জনসেবা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগের ফলে, পার্ক ও জনস্থানগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং শহরের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ, পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল অবকাশের স্থান তৈরি করা সম্ভব হবে।



