সিটি ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাশরুর আরেফিন, ব্যাংকিং সেক্টরের শীর্ষ সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এএবিবি) এর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সময়ে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও আহসান জামাল চৌধুরীকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে।
এএবিবি এর ২৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন নেতৃত্ব ২০২৬-২০২৭ দুই বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচিত কমিটি ব্যাংকিং নীতি, প্রযুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়াতে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাশরুর আরেফিনের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার তিন দশকের বেশি সময়ের, যার মধ্যে সিটি ব্যাংকে গত সাত বছর ধরে শীর্ষ পদে আছেন। তিনি ১৯৯২ সালে ব্যাংকিং জগতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক গ্রাহক ভিত্তি ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
এএবিবি তে আরেফিনের পূর্ববর্তী ভূমিকা ছিল ইন্টারিম চেয়ারম্যান, যেখানে তিনি সাত মাসের জন্য সংস্থার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে সুইফট সদস্য ও ব্যবহারকারী গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন, যা দেশের পেমেন্ট সিস্টেমের আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে সহায়তা করে।
আহসান জামাল চৌধুরীর ব্যাংকিং যাত্রা ১৯৮৬ সালে এ.বি. ব্যাংকে শুরু হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকে যোগ দেন এবং বিভিন্ন পদে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। জুলাই ২০২৪ থেকে তিনি ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও হিসেবে দায়িত্বে আছেন, যেখানে তিনি ঋণ পোর্টফোলিও ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে ত্বরান্বিত করেছেন।
এএবিবি তে নির্বাচিত তিনজন ভাইস-চেয়ারম্যান হলেন হাসান ও রশিদ (প্রাইম ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও), মোহাম্মদ আলী (পুবালি ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও) এবং মোহাম্মদ মামদুদুর রশিদ (ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও)।
ট্রেজারার পদে নিযুক্ত হয়েছেন তরিক রিয়াজ খান, যিনি এনআরবি ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও। যৌথ সেক্রেটারি হিসেবে মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ, জামুনা ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, নির্বাচিত হন।
এএবিবি এর বোর্ড অব গভার্নর্সে ১২টি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইওকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদবিন্যাস ব্যাংকিং সেক্টরের সমন্বিত নীতি নির্ধারণে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করবে।
নতুন নেতৃত্বের গঠন ব্যাংকিং শিল্পে সমন্বিত কৌশল ও নিয়ন্ত্রক নীতির সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ক্ষেত্রে এএবিবি এর ভূমিকা বাড়বে।
বাজারের দৃষ্টিতে, আরেফিনের স্বল্পমেয়াদী অভিজ্ঞতা এবং সুইফট গ্রুপের নেতৃত্ব ব্যাংকিং সিস্টেমের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নতি আনতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে চৌধুরীর ট্রাস্ট ব্যাংকের রূপান্তর অভিজ্ঞতা ঋণ নীতি ও গ্রাহক সেবা মানদণ্ডে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে।
সারসংক্ষেপে, এএবিবি এর নতুন কমিটি ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আপগ্রেড এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।



