বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সোমবার সন্ধ্যায় ৬৭ হাজার শিক্ষকের জন্য সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তি দেশের সমস্ত এমপিও‑সংযুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শূন্যপদগুলো তিনটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। স্কুল ও কলেজে মোট ২৯,৫৭১টি পদ, মাদরাসায় ৩৬,৮০৪টি পদ এবং কারিগরি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে ৮৩৩টি পদ বরাদ্দ করা হয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ই‑অ্যাপ্লিকেশন মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন ফরম পূরণ এবং ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১২ টা পর্যন্ত নির্ধারিত। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সব ধাপ সম্পন্ন করা আবশ্যক।
প্রার্থীদের বয়স সংক্রান্ত শর্তও স্পষ্ট করা হয়েছে। ৪ জুন ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর নির্ধারিত, অর্থাৎ এই তারিখের পরে ৩৫ বছর অতিক্রম করা প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না। বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ গ্রহণযোগ্য।
শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে সনদটি বৈধ থাকবে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুসারে। তবে, ইতিমধ্যে ইনডেক্সধারী (কর্মরত) শিক্ষকগণ একই পদে আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনকারীদের নিবন্ধন সনদ, বয়সের প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ই‑অ্যাপ্লিকেশন ফরমের সঙ্গে আপলোড করতে হবে। ফি পরিশোধের জন্য অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা যাবে, এবং পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ বিবরণ, শূন্যপদের তালিকা, আবেদন ফরম এবং নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.ntrca.gov.bd-তে পাওয়া যাবে। এছাড়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্দিষ্ট পোর্টাল http://ngi.teletalk.com.bd-ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে।
একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে বর্তমানে কাজ করছেন, তিনি ইতিমধ্যে নিজের বয়স ও সনদের মেয়াদ যাচাই করে ই‑অ্যাপ্লিকেশন ফরমে ডেটা ইনপুট শুরু করেছেন। তিনি বলছেন, সময়মতো ফি জমা এবং নথি আপলোড না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়ার সফলতা বাড়াতে কিছু ব্যবহারিক টিপস রয়েছে। প্রথমে, সব প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে একটি ফোল্ডারে সংরক্ষণ করুন, যাতে ফরম পূরণের সময় দ্রুত আপলোড করা যায়। দ্বিতীয়ত, ফি জমা দেওয়ার পর পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করুন এবং ই‑মেইল বা ফোনে নিশ্চিতকরণ বার্তা চেক করুন। শেষমেশ, শেষ তারিখের আগে সব ধাপ সম্পন্ন করে নিশ্চিত করুন যে ফরমের সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ হয়েছে।
আপনার কি এই নিয়োগে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে? যদি হ্যাঁ, তবে উপরের টিপসগুলো অনুসরণ করে সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করুন। আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যদি শূন্যপদের মানদণ্ডে মেলে, তবে এই সুযোগটি আপনার ক্যারিয়ারকে নতুন দিক দিতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের এই বৃহৎ উদ্যোগ দেশের শিক্ষা খাতের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। সকল যোগ্য প্রার্থীর জন্য শুভকামনা।



