মহানগর নোয়াডার নলেজ পার্কে বসবাসরত দক্ষিণ কোরিয়ান নাগরিক ডাক হি ইউহ গত রাতে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটালেন, যখন মণিপুরের এক তরুণী লুনজিয়ানা পামাই তাকে ছুরিকাঘাত করে। দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কের পরিণতিতে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।
ডাক হি ইউহ দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক এবং একটি মোবাইল ডিভাইস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তার কাজের দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভারতের এই শহরে বসবাস করছিলেন, যেখানে তিনি লুনজিয়ানা পামাইয়ের সঙ্গে লাইভ‑ইন পার্টনার হিসেবে একসাথে থাকতেন।
লুনজিয়ানা পামাই মণিপুরের বাসিন্দা এবং তার বয়স প্রায় ত্রিশের কাছাকাছি বলে জানা যায়। তিনি এবং ডাক হি দুজনই নলেজ পার্কের একটি বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্সে একই ছাদে বসবাস করছিলেন, যেখানে তাদের সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন ছিল না, তবে উভয়ই একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতায় বাস করছিলেন।
রাতের সময় দুজনের মধ্যে তীব্র কথোপকথন শুরু হয়। কথোপকথন দ্রুতই তর্কে রূপ নেয় এবং শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে লুনজিয়ানা পামাই ডাক হি ইউহের বুকে ছুরিকাঘাত করেন, যা তাকে গুরুতরভাবে আহত করে।
আহত অবস্থায় থাকা ডাক হি ইউহকে লুনজিয়ানা নিজেই গুড হেলথ ইনস্টিটিউট মেডিকেল সেন্টার (GIMS) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় ডাক হি ইউহের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং চিকিৎসকরা জানান তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
হাসপাতাল থেকে ডাক হি ইউহের দেহ বের করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লুনজিয়ানা পামাইকে হেফাজতে নেয়। তাকে নলেজ পার্ক থানা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপরাধস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হেফাজতে থাকা লুনজিয়ানা পামাই জানান, ডাক হি ইউহ মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই সহিংস আচরণ করতেন এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেন। তিনি দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ভিত্তিতে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করেছেন, কোনো পূর্ব পরিকল্পনা না থাকায়। তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে ঘটনাটি হঠাৎ সংঘটিত হয়।
নলেজ পার্ক থানা পুলিশ জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ডাক হি ইউহের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায়।
ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং সব তথ্যই সরাসরি দুজনের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নলেজ পার্ক থানা স্থানীয় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে এবং একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে।
বিবরণী অনুসারে, মামলাটি আদালতে উপস্থাপিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।



