লুমিনার, লিডার প্রযুক্তি নির্মাতা, তার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সিইও অস্টিন রাসেলকে তথ্য সরবরাহের জন্য জারি করা সাবপোনা এড়িয়ে চলার অভিযোগ জানিয়ে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে। কোম্পানি দেউলিয়া সুরক্ষার অধীনে চ্যাপ্টার ১১ প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এই দাবিগুলো মামলার অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
লুমিনার দেরি ডিসেম্বর মাসে চ্যাপ্টার ১১ দেউলিয়া সুরক্ষায় প্রবেশের পর থেকে আর্থিক পুনর্গঠন ও সম্পদ বিক্রয়ের পরিকল্পনা চালু করেছে। দেউলিয়া প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোম্পানি তার দুটি প্রধান ব্যবসা শাখা বিক্রয়ের জন্য আদালতের অনুমোদন চাচ্ছে।
সপ্তাহান্তে দাখিল করা জরুরি আবেদনটি কোম্পানির আইনজীবীদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয় এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসেল মে মাসে পদত্যাগের পর থেকে কোম্পানির মালিকানাধীন ডিভাইসগুলো ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি কম্পিউটার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে তার কোম্পানি-ইস্যু করা মোবাইল ফোন এবং ব্যক্তিগত ফোনের ডিজিটাল কপি এখনও অনুপস্থিত।
লুমিনার আইনজীবীরা দাবি করেন যে, রাসেল ও তার ব্যক্তিগত কর্মচারীরা ছুটির সময়কালে তার অবস্থান সম্পর্কে আদালতের প্রতিনিধিদের ধারাবাহিকভাবে ভুল তথ্য প্রদান করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে তারা আদালতের অনুমোদন চেয়ে রাসেলকে ডাক বা ইমেইলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর অনুমতি চাইছে।
অস্টিন রাসেল তার পক্ষ থেকে ইমেইলে জানিয়েছেন যে, তিনি তথ্য সরবরাহে সহযোগী হতে ইচ্ছুক এবং লুমিনারকে তার ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোম্পানি এই শর্তে সম্মত হয়নি।
লুমিনার এই শর্ত প্রত্যাখ্যানের পর, রাসেলের আইনজীবী লিওনার্ড শুলম্যান জানিয়েছেন যে, কোম্পানি যদি ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে সম্মত না হয়, তবে তারা আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করবে। এই বিবৃতি কোম্পানির অতিরিক্ত মন্তব্যের অনুরোধে অস্বীকারের পর প্রকাশিত হয়েছে।
জরুরি আবেদনটি দেউলিয়া মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি লুমিনারকে তার ব্যবসার দুইটি মূল অংশ বিক্রয়ের পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে। প্রথম অংশটি হল সেমিকন্ডাক্টর সাবসিডিয়ারি, যা কুইন্টার কম্পিউটিং, ইনক. নামের একটি সংস্থার কাছে বিক্রি করার চুক্তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটের বিক্রয় ছাড়াও, লুমিনার তার লিডার বিভাগে বাণিজ্যিক বিডের জন্য জানুয়ারি ৯ তারিখের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সময়সীমার মধ্যে সম্ভাব্য ক্রেতারা তাদের প্রস্তাব জমা দিতে পারবে, যা দেউলিয়া আদালতের অনুমোদনের পরে চূড়ান্ত হবে।
অস্টিন রাসেল তার নতুন উদ্যোগ, রাসেল এআই ল্যাবসের মাধ্যমে লুমিনারকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি চ্যাপ্টার ১১ দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি বিড জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তার লক্ষ্যকে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য পুনরুদ্ধার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাসেল এআই ল্যাবসের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হল লুমিনারকে পুনরায় গড়ে তোলা এবং স্টেকহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূল্য সৃষ্টি করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি কোম্পানির বর্তমান বিক্রয় পরিকল্পনা ও দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় রেখে উপস্থাপিত হয়েছে।
লুমিনার ও রাসেলের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও ডিভাইস ফেরত সংক্রান্ত বিরোধ দেউলিয়া আদালতে কীভাবে সমাধান হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষই আদালতের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে লিডার বাজারের গতি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পুনর্গঠন এই মামলার ফলাফলের উপর নির্ভরশীল হবে।



