অভিনেত্রী মালাভিকা মোহনান, থিয়েটার ‘দ্য রাজা স্যাব’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তার ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে কথা বললেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনটি বড় প্রকল্প একসাথে পরিচালনা করছেন, যা তামিল, মালয়ালম এবং তেলুগু ভাষায় নির্মিত। এই সময়ে তিনি শিল্পের পরিবর্তনশীল গতিবিধি এবং নতুন সুযোগ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।
মালাভিকা বর্তমানে তামিল ছবিতে বিক্রমের সঙ্গে ‘থাঙ্গালান’ শিরোনামের চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। একই সঙ্গে, তিনি মালয়ালমের কিংবদন্তি অভিনেতা মোহনলালের সঙ্গে ‘হৃদয়পুরবম’ প্রকল্পে যুক্ত। তেলুগু ভাষায় তার প্রথম পদক্ষেপ ‘দ্য রাজা স্যাব’ নামে একটি চলচ্চিত্রে, যেখানে তিনি নতুন চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন। এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছেন।
অভিনেত্রীটি উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক মিডিয়ার বিস্তৃত ব্যবহার চলচ্চিত্রের সীমানা ধীরে ধীরে মুছে ফেলছে। এখন কোনো চলচ্চিত্রের ভাষা যাই হোক না কেন, যদি তা ভালো হয় তবে তা দ্রুত দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই নতুন পরিবেশে চলচ্চিত্রের ভৌগোলিক সীমা আর কঠোর নয়, ফলে শিল্পীজনের কাজের পরিধি বাড়ছে।
মালাভিকা বলেন, এই সময়ে অভিনেতা হওয়া বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ তিনি বিভিন্ন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় নায়কদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি এমন কিছু বিশিষ্ট পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন, যাদের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য গৌরবের বিষয়। এই ধরনের সহযোগিতা তার পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, মোহনলাল স্যার, বিক্রম, থালাপতি ভিজয়, প্রভাস স্যার ইত্যাদি বিশাল নামের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য এক ধরনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এই নায়কদের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাকে শিল্পের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সুযোগগুলো তার শিল্পী হিসেবে আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
মালাভিকা তার চরিত্রের বৈচিত্র্য নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি ‘থাঙ্গালান’ এ একটি আদিবাসী দেবী চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে ‘হৃদয়পুরবম’ এ তিনি পুণের শহুরে মেয়ে হিসেবে বাস্তবধর্মী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তেলুগু ছবিতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন, যা তাকে নতুন শৈল্পিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন তার অভিনয় দক্ষতাকে বহুমুখী করে তুলছে।
অভিনেত্রীটি বলেন, বিভিন্ন ধরণের গল্প ও শৈলীর সঙ্গে কাজ করা তার জন্য সৃজনশীলভাবে সমৃদ্ধিকর। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক নাটক থেকে আধুনিক সামাজিক গল্প পর্যন্ত বিভিন্ন জঁর অন্বেষণ করা তাকে শিল্পী হিসেবে আত্ম-অন্বেষণের সুযোগ দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে।
শেষে মালাভিকা তার বর্তমান পর্যায়কে “অত্যন্ত সন্তোষজনক” বলে বর্ণনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদী যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং শিল্পের সীমানার মিশ্রণ তাকে আরও বড় মঞ্চে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। তার কথায় স্পষ্ট যে, এই সময়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।



