ঢাকা‑৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা আজ বিকেল চারটায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে তার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করেন। আইনজীবী আরমান হোসেনের সহায়তায় তিনি আবেদনপত্র জমা দেন এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তাসনিম জারা জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা‑৯ আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে তা এখনো গৃহীত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি ও তার দল আপিলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় একদিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক স্বাক্ষর করে তার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছে এবং তারা স্বয়ং বুথ স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছে। এই সমর্থনকে সম্মান জানিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আইনি প্রতিনিধিরা ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটার তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা সঠিক বলে বিবেচিত। তবে ভোটার ও স্বাক্ষরকারীর তালিকা সংগ্রহের সময় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় স্বাক্ষরকারীর ভোটার পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রস্তাবকদের তালিকায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা আপিলের মূল বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে।
আরমান হোসেন উল্লেখ করেন, যদিও স্বাক্ষরদাতারা ঢাকা‑৯ আসনের ভোটার হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন, তবে যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আপিলের মাধ্যমে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে এবং সফল হলে তাসনিম জারা আবার জনগণের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাসনিম জারা এবং তার আইনজীবী উভয়ই জানান, আপিলের ফলাফল নির্ভর করবে কীভাবে ভোটার তালিকার যথার্থতা প্রমাণ করা যায় তার ওপর। তারা উল্লেখ করেন, যদি আপিল স্বীকৃত হয়, তবে তিনি পুনরায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন এবং তার সমর্থকদের স্বেচ্ছাসেবী প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারবেন।
এই আপিলের ফলাফল ঢাকা‑৯ আসনের রাজনৈতিক গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান শক্তিশালী হলে তা প্রধান দলগুলোর কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, যদি আপিল প্রত্যাখ্যান হয়, তবে তাসনিম জারার রাজনৈতিক পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অন্য কোনো উপায়ে অংশ নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন এখনও আপিলের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেনি, তবে উভয় পক্ষই দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তাসনিম জারা এবং তার আইনজীবী উভয়ই আশাবাদী যে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় সমাধান পাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ন্যায়সঙ্গত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
এই আপিলের পরবর্তী ধাপ হবে বিচারিক পর্যালোচনা, যেখানে আদালত প্রার্থিতার শর্তাবলী, ভোটার তালিকার সঠিকতা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি মূল্যায়ন করবে। ফলাফল নির্ভর করবে প্রমাণের শক্তি ও আইনি ব্যাখ্যার ওপর, যা শেষ পর্যন্ত তাসনিম জারার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।



