ঢাকা, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় একতাবদ্ধ গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আজ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিং ঘটলে পুনরায় গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান জানাবে বলে সতর্ক করেছে। পার্টির মুখপাত্রের মতে, স্বচ্ছতা না থাকলে জনগণের অসন্তোষের মাত্রা বাড়বে।
ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে ভোটার তালিকা পরিবর্তন, ভোটের ফলাফল গোপনে পরিবর্তন বা ভোটারদের দমনকে বোঝানো হয়। জাগপা উল্লেখ করেছে যে এমন কোনো অনিয়ম ঘটলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখনো কয়েক মাস বাকি থাকা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের শেষের দিকে ভোটের তারিখ নির্ধারণের কথা জানিয়েছে, আর রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জাগপা পূর্বে একই বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে থাকে; গত বছরও তারা ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই বার্তাটি পূর্বের সতর্কতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের কাছাকাছি, যা দেশের বৃহত্তম নির্বাচনী অংশগ্রহণের সূচক। এত বড় ভোটার ভিত্তিতে কোনো অনিয়মের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
পার্টির মুখপাত্রের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে জাগপা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করবে।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীও ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান শক্তিশালী করার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে।
এদিকে সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিশাল অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। জনমত গঠন ও ভোটার অংশগ্রহণের হার উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে।
জাগপা অতীতে গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা পর্যালোচনা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে এই পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ পর্যায়ে জাগপা ও অন্যান্য দল কীভাবে ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ মোকাবেলা করবে, তা নজরে রাখবেন। নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ভর করবে এই বিষয়গুলোর সমাধানের উপর।
সারসংক্ষেপে, জাগপা ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এ ধরনের অনিয়ম ঘটলে গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখা এখন দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



