গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে সোমবার সকালেই এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা সংক্রান্ত উদ্বেগ।
বৈঠকের সূচনায় তারেক রহমান একাত্তর যুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে এমন দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার সাফল্য ছাড়া জাতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়টি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য। তার এই বক্তব্যের পর তিনি সকল অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীসহ একসঙ্গে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের অন্যতম সংবেদনশীল মুহূর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত সবাই তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসের পর মাতৃবিয়োগের শোকের কথা উল্লেখ করেন। এই সমবেদনা প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আলোচনা চালিয়ে যায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল‑কাফি রতন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, এবং অন্যান্য বামগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উত্থানকে দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিএনপির তরফ থেকে উল্লেখ করা হয় যে, ২৯ নভেম্বর গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করে সাতটি বামপ্রগতিশীল দল একত্রিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে। এই জোটের লক্ষ্য হল বামধারার নীতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকে একত্রে এগিয়ে নেওয়া।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা একত্রে সমন্বিত কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করেন, যাতে আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ করা যায়। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংলাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
তরেক রহমানের একাত্তর বাদ না দেওয়ার দাবি এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের গঠন উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সমন্বয় যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক ধারা ও নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, কীভাবে এই জোটের সদস্যরা নির্বাচনী মঞ্চে একসাথে কাজ করবে এবং কী ধরনের নীতি প্রস্তাব করবে।
বৈঠকের সমাপ্তিতে সকল উপস্থিতি একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করে, এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বায়ত্তশাসন, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করা, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।



