ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনার, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলার পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অনুপস্থিতির পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ” এবং এ কথা বলার পেছনে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার সকালে, যেখানে বান্দরবান জেলা পুলিশের আয়োজনের অধীনে বিভিন্ন সরকারি দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একত্রিত হন। প্রধান অতিথি হিসেবে ইসি সানাউল্লাহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার, জিনিয়া চাকমা এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সানাউল্লাহের বক্তব্যে তিনি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। “স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে সবাইকে,” তিনি বলেন এবং সকল সংশ্লিষ্টকে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহিত করেন। এই আহ্বান বিশেষভাবে পুলিশের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা ইসি সানাউল্লাহের মন্তব্যের প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে সমন্বয় প্রয়োজন। পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমানও নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে অতিরিক্ত পদক্ষেপের কথা জানান।
এই মতবিনিময় সভা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য ভাগাভাগি নিশ্চিত করে। বিশেষ করে বান্দরবানের মতো পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা জাতীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের সাফল্যের সূচক।
ইসি সানাউল্লাহের মন্তব্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ ত্বরান্বিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান” এবং এই নীতির ভিত্তিতে সকল নির্বাচনী কর্মীকে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
অধিকন্তু, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসি সানাউল্লাহের নির্দেশে তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে অধিকতর বৈধতা দেবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক প্রতিযোগিতা উত্সাহিত করবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের গণতান্ত্রিক শূন্যতা পরবর্তী এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক চিত্রকে শক্তিশালী করবে।
অধিকন্তু, নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইসি সানাউল্লাহের নির্দেশে রিয়েল-টাইম ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। এটি ভোটারদের ফলাফলে দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং সম্ভাব্য বিরোধের সম্ভাবনা কমাবে।
সামগ্রিকভাবে, বান্দরবান জেলার এই বিশেষ মতবিনিময় সভা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্জাগরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসি সানাউল্লাহের দৃঢ় বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
এই সভা এবং ইসি সানাউল্লাহের মন্তব্যের পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করবে, যাতে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত এবং সকল নাগরিকের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়।



