শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান ৫ জানুয়ারি এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি একই দিনে প্রতিষ্ঠানের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা নির্দেশ করে।
প্রধান মন্ত্রকের ১ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন চেয়ারপার্সন নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ওবায়দুর রহমান শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশনের শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করবেন। এই দ্বৈত দায়িত্বের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নীতি ও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সমন্বয় সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার শিক্ষাগত পটভূমি তাকে শিল্প নীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
সরকারি কর্মজীবনে তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসন এবং পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতা, এসএমই সেক্টরের ভিত্তিক সমস্যাগুলি সরাসরি বুঝতে সহায়তা করবে।
এসএমই ফাউন্ডেশন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করে। এটি আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নতুন চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা এই সেবা গুলিকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ওবায়দুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে এসএমই সেক্টরে ধারাবাহিক নীতি বাস্তবায়ন এবং তহবিলের প্রবাহে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। সরকারী তহবিলের দ্রুত বরাদ্দ এবং ঋণ সুবিধার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসার নগদ প্রবাহ উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তদুপরি, ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় নতুন উদ্যোগের জন্য একক দরজা তৈরি করবে। উদাহরণস্বরূপ, রপ্তানি-উন্মুখ এসএমই গুলোর জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উন্নয়নের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত হতে পারে।
প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাজার তথ্য সরবরাহ এবং ই-কমার্স সমর্থন বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ওবায়দুর রহমানের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এই ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
তবে, একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা কিছু চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসতে পারে। উচ্চ স্তরের প্রশাসনিক কাজের চাপের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের ঝুঁকি রয়েছে, যা সময়মতো নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, ফাউন্ডেশনের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট দায়িত্ববণ্টন প্রয়োজন, যাতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সংঘাত না হয়।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে এসএমই ফাউন্ডেশন ডিজিটাল আর্থিক সেবা, গ্রিন টেকনোলজি এবং দক্ষ শ্রমশক্তি গঠনের দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে। এসব উদ্যোগ দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, শিল্পসচিবের নতুন চেয়ারপার্সন নিযুক্তি এসএমই খাতের জন্য নীতি ধারাবাহিকতা, তহবিলের প্রবেশগতি এবং প্রযুক্তি গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সেক্টরের উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।



