প্রধান উপদেষ্টার অফিসের পক্ষ থেকে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। এই সেবা ০১৩০৮৩৩২৫৯২ নম্বরে ফোনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে এবং একই সঙ্গে ইমেইল ঠিকানা [email protected]‑এ লিখিত অভিযোগ পাঠানো সম্ভব। হটলাইনটি ৫ জানুয়ারি, সোমবার, প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টের মাধ্যমে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়।
হটলাইনটি জাতীয়, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে গুজবের অভিযোগ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে, ফলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত তথ্য যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের প্রভাব কমানো।
প্রযুক্তি দৃষ্টিকোণ থেকে হটলাইনটি স্বয়ংক্রিয় কল রাউটিং সিস্টেম এবং ডেটা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কাজ করবে। কলের রেকর্ড, ইমেইল কন্টেন্ট এবং ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপদ সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তীতে বিশ্লেষণ ও ট্র্যাকিং সহজ হয়। সিস্টেমটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এবং অভিযোগের অগ্রাধিকার অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় টিকিট জেনারেট করবে।
ইমেইল চ্যানেলটি বিশেষভাবে ডিজিটাল সাক্ষরতা কম থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা লিখিতভাবে অভিযোগ পাঠিয়ে প্রমাণ সংযুক্ত করতে পারে। ইমেইল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় রেসপন্স ফিচার যুক্ত, যা প্রেরকের কাছে প্রাপ্তির স্বীকৃতি এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ সময়ের তথ্য জানাবে।
হটলাইন নম্বরের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ব্যবহারকারীরা দ্রুত এই নম্বরটি শেয়ার করে, যাতে গুজবের শিকড় খুঁজে বের করা যায় এবং তা দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপে এই নম্বরের প্রচার বাড়ছে।
এই সেবার মাধ্যমে সরকার গুজবের উৎস চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে বিষয়বস্তু মুছে ফেলা বা সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুরোধ পাঠাতে পারবে। এছাড়া, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হবে, যাতে তারা নিজস্ব নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হটলাইনটি তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডেটা অ্যানালিটিক্স টুলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এতে করে বড় পরিমাণের অভিযোগ দ্রুত স্ক্যান করে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা যাবে। এই পদ্ধতি ম্যানুয়াল যাচাইয়ের তুলনায় সময় ও মানবসম্পদ সাশ্রয় করবে।
হটলাইনটি চালু হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে ইতিমধ্যে শতাধিক অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বেশিরভাগই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিষয়ের গুজবের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ গুজব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে হটলাইনটি সেগুলোর দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তথ্যের স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে চায়। গুজবের প্রভাব কমাতে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে, এবং হটলাইনটি সেই অংশগ্রহণের সরাসরি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
প্রযুক্তি কলামিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে, হটলাইনটি একটি ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসের উদাহরণ, যেখানে টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সফটওয়্যার সমাধান একসঙ্গে কাজ করে সামাজিক সমস্যার সমাধান করে। এ ধরনের সেবা ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্ষেত্রেও, যেমন সাইবার নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায়, অনুকরণীয় হতে পারে।
হটলাইন নম্বরের পাশাপাশি, সরকার গুজব মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এই ক্যাম্পেইনগুলোতে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি, ভুয়া খবরের পার্থক্য এবং সঠিক সূত্রের ব্যবহার শেখানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদমের পরিবর্তন এবং কন্টেন্ট মডারেশন নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে, হটলাইনটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ফলে গুজবের বিস্তার রোধে একাধিক স্তরে প্রতিক্রিয়া সম্ভব হবে।
অবশেষে, হটলাইনটি দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগের সুযোগ দিয়ে, তথ্যের গুণগত মান উন্নত করতে এবং গুজবের সামাজিক ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সেবা আরও বিস্তৃত হয়ে, দেশের তথ্য পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তুলবে।



