মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবারের এয়ার ফোর্স ওয়ান প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, তিনি পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের কোনো হামলা ঘটেছে এমন খবরকে স্বীকার করেন না। এই মন্তব্যটি চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি লক্ষ করে কূটনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়ার মুহূর্তে প্রকাশিত হয়, যখন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য উপস্থিত।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, পুতিনের বাড়িতে কোনো আক্রমণ ঘটেছে এমন তথ্যের সত্যতা অনিশ্চিত এবং তিনি নিজে তা বিশ্বাস করতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার সরকারী মুখপাত্ররা ইউক্রেনকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে এবং পুতিনের বাসভবনের নিকটে কোনো আক্রমণ ঘটেছে বলে দাবি করা তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির দিকে নিয়ে যাবে।
এর বিপরীতে, কিয়েভের সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে যে পুতিনের বাসভবনে কোনো আক্রমণ ঘটেছে। তারা জানিয়েছে, এমন কোনো ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি এবং রাশিয়ার এই অভিযোগকে কূটনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখছে।
মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের পক্ষে পুতিনের বাড়ির নিকটে কোনো হামলা চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা যুক্তি দিয়েছেন, যদি কোনো ঘটনা ঘটলেও তা ইউক্রেনের উদ্যোগে নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণের তীব্রতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি রাশিয়াকে একাধিক মারাত্মক বোমা হামলার মাধ্যমে যুদ্ধকে ‘নতুন বছরে’ নিয়ে যাওয়ার জন্য দোষারোপ করেন। আজ ভোরে রাশিয়ার আকাশীয় আক্রমণের ফলে কিয়েভ অঞ্চলে সাইরেন বাজানো হয় এবং কমপক্ষে দুই জন নাগরিক নিহত হয়।
ইউরোপীয় নেতারা আগামীকাল ফ্রান্সে একত্রিত হয়ে মার্কিন-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। ইউক্রেনের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রায় নব্বই শতাংশ প্রস্তুত রয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই আলোচনার ফলাফল যুদ্ধের সমাপ্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পুতিনের বাসভবনে আক্রমণের অভিযোগের পারস্পরিক বিরোধ তথ্যযুদ্ধের একটি অংশ, যা উভয় পক্ষের আন্তর্জাতিক মতামত গঠন করার চেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। আসন্ন ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা কীভাবে শেষ পর্যন্ত সংঘাতের সমাধানে অবদান রাখবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।



