প্যারিসের একটি আদালত গত সোমবার ব্রিজিট ম্যাক্রন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এম্যানুয়েল ম্যাক্রনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাইবার‑হেনস্থে জড়িত দশজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযুক্তরা তার লিঙ্গ ও যৌন পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে দেওয়া এবং দম্পতির ২৪ বছরের বয়স পার্থক্য নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রতিবাদী গোষ্ঠী ইন্টারনেটে ব্রিজিটের ট্রান্সজেন্ডার হওয়ার ভিত্তিহীন তত্ত্ব প্রচার করেছিল, যা ২০১৭ সালে তার স্বামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই তত্ত্বের ভিত্তি ছিল কোনো প্রমাণের অভাব, তবু তা সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আদালত অধিকাংশ অভিযুক্তকে আট মাস পর্যন্ত স্থগিত শাস্তি প্রদান করেছে, যার অর্থ তারা শাস্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মুক্ত থাকবে। তবে একজন অভিযুক্তকে আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে সঙ্গে সঙ্গে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ রায়ের বিশদ এখনও প্রকাশিত হয়নি; তবে রায়ের পূর্ণ পাঠ্য প্রকাশিত হলে শাস্তির প্রকৃতি ও পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এই রায়ের পরবর্তী পর্যায়ে আপিলের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
ব্রিজিট ম্যাক্রনের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া গুজবের সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী প্রভাবশালী ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধে ম্যাক্রন পরিবার একটি মানহানি মামলা দায়ের করেছে। ওয়েন্সের সামাজিক মিডিয়া ও পডকাস্টে ধারাবাহিকভাবে ব্রিজিটের লিঙ্গ সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
ম্যাক্রন পরিবার ওয়েন্সের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে, তা হল তিনি প্রমাণযোগ্য তথ্য উপেক্ষা করে পরিচিত ষড়যন্ত্রবাদী ও পূর্বে মানহানি করা ব্যক্তিদের মঞ্চে তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাটি চলমান রয়েছে।
মার্চ ২০২৪-এ ওয়েন্স তার পডকাস্টে ঘোষণা করেন যে তিনি তার পুরো পেশাগত সুনামকে ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত, যদি তিনি ব্রিজিট ম্যাক্রনকে পুরুষ বলে প্রমাণ করতে না পারেন। এই বিবৃতি তার পূর্বের মন্তব্যের ধারাবাহিকতা, যেখানে তিনি ধারাবাহিকভাবে ম্যাক্রনের লিঙ্গকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ব্রিজিট ম্যাক্রনের প্রথম পরিচয় তার শিক্ষক ক্যারিয়ার থেকে আসে; তিনি যখন তার ভবিষ্যৎ স্বামীকে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে জানতেন, তখনই দুজনের পরিচয় হয়। সেই সময়ে তিনি শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন, আর এম্যানুয়েল ম্যাক্রন তখনই তার শিক্ষার্থী।
দম্পতি ২০০৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের সময় এম্যানুয়েল ২৯ বছর বয়সী ছিলেন, আর ব্রিজিট তার মাঝারি ৫০-এর দশকে ছিলেন, ফলে দুইজনের মধ্যে প্রায় চব্বিশ বছরের বয়স পার্থক্য রয়ে যায়। এই বয়স পার্থক্যই কিছু অনলাইন গোষ্ঠীকে তাদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গড়ে তুলতে প্রেরণা দেয়।
আদালতের রায়ের পরবর্তী পর্যায়ে অভিযুক্তদের আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মামলাটিকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মানহানি মামলাটি কীভাবে সমাপ্ত হবে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নজরদারির বিষয়।
এই ঘটনায় ফরাসি আইনি ব্যবস্থা সাইবার‑হেনস্থের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা অনলাইন পরিবেশে গুজব ও মানহানির বিস্তার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় কীভাবে আইনি নীতি প্রয়োগ হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাক্রন পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হলে, এই মামলার প্রভাব ও পরিণতি সম্পর্কে আরও বিশদ জানানো হবে। বর্তমানে, আদালতের রায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানহানি মামলায় উভয় দিকের অগ্রগতি অনুসরণ করা হচ্ছে।



