22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুপ্রিম কোর্ট মিথ্যা সংবাদে অবমাননা শাস্তি সতর্কতা জারি

সুপ্রিম কোর্ট মিথ্যা সংবাদে অবমাননা শাস্তি সতর্কতা জারি

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি – বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আদালতের প্রতি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রকাশে কঠোর শাস্তির ইঙ্গিত দেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো গণমাধ্যম সংস্থা যদি সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো খবর প্রকাশের আগে আদালতের মিডিয়া ফোকাল পার্সন অথবা রেজিস্টার জেনারেলের অফিস থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে, তবে ভবিষ্যতে তা অবমাননাকর কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইনগত দায়িত্ব আরোপিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া কর্মীদেরকে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে। মিডিয়া ফোকাল পার্সন বা রেজিস্টার জেনারেলের অফিসকে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের একমাত্র অনুমোদিত কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনধিকারপ্রাপ্ত বা ভুল তথ্যের প্রচার রোধে সহায়তা করবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সতর্কতা বিশেষভাবে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভুল রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বিচারপতি বেঞ্চ না পাওয়ার কারণে ছুটি নেওয়ার খবর প্রচারিত হয়েছিল। আদালত এইসব তথ্যকে সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে খণ্ডন করে, এবং উল্লেখ করে যে, এই ধরনের ভুল তথ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও জনমতকে ক্ষুণ্ন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে দুইজন বিচারপতির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তার মাতার অসুস্থতার কারণে সাময়িক ছুটি গ্রহণ করেছেন, আর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদও নিজের স্বাস্থ্যের অবনতি ও হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রয়েছেন। এই দুইজনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে পূর্বে মিডিয়ায় প্রচারিত মিথ্যা সংবাদ কোনো সম্পর্ক রাখে না, তা আদালত জোর দিয়ে বলেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই বিজ্ঞপ্তি আদালতের অবমাননা শাস্তি সংক্রান্ত আইনি বিধানকে পুনরায় জোরদার করে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের গৌরব ও স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুন্ন করে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে, তবে তা অবমাননা শাস্তির আওতায় পড়বে এবং সংশ্লিষ্টকে আইনি দায়িত্ব বহন করতে হবে।

এই সতর্কতা মিডিয়া সংস্থাগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশিত ভুল সংবাদ জনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারে, যা আদালতের স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়। আদালত এই প্রেক্ষিতে মিডিয়া কর্মীদেরকে যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবমাননা শাস্তির মুখে না পড়তে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক হবে। মিডিয়া ফোকাল পার্সন বা রেজিস্টার জেনারেলের অফিসকে তথ্যের প্রামাণিকতা যাচাইয়ের একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনধিকারপ্রাপ্ত বা ভুল তথ্যের প্রচার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিক সংস্থার মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু সংস্থা ইতিমধ্যে আদালতের নির্ধারিত যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রোটোকল তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কিছু মিডিয়া কর্মী এই নতুন নির্দেশনার প্রয়োগে অতিরিক্ত সময় ও সম্পদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে।

অবমাননা শাস্তি সংক্রান্ত এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি ভুল তথ্যের প্রচার কমে যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে আদালতের এই সতর্কতা মিডিয়ার স্বাধীনতা ও প্রকাশের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও পর্যবেক্ষণ করা বাকি।

সুপ্রিম কোর্টের এই বিজ্ঞপ্তি দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার সংস্থার গৌরব রক্ষার পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ কেবলমাত্র আদালতের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে না, বরং দেশের আইন শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষিতে, মিডিয়া সংস্থাগুলোর জন্য এখন থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মেনে চলা এবং আদালতের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে আদালত অবমাননা শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকায়, সকল সংশ্লিষ্টকে আইনগত দায়িত্ব থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments