22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে প্রায় চৌদ্দ ঘণ্টা আটক থাকার পর রবিবার সকাল প্রায় আটটায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতে হাজির হন, যেখানে তার বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মাহদী হাসানকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গ্রেফতার করা হয় এবং পরের দিন সকাল আটটা পর্যন্ত তিনি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতা-সদস্য শায়েস্তাগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান করেন। ওই সময়ে তারা রাতের বেলা আদালতে জামিনের আবেদন করেন, তবে আদালত রাতের সেশন না বসিয়ে দিল, ফলে সকালেই তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে উপস্থিতি বিশাল ছিল; সংগঠনের শতাধিক নেতা ও কর্মী আদালত প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপস্থিতদের মধ্যে কিছুজন আদালতের দরজা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা মামলাটির প্রতি আন্দোলনের তীব্র মনোযোগ প্রকাশ করে।

হবিগঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি চলমান মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের ওপর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশান্তিপূর্ণ আচরণ এবং সরকারি কাজের বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

এই মামলার পটভূমিতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ দাবি করে, এনামুল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থেকে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার গ্রেফতার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

এ সময় মাহদী হাসান নেতৃত্বে একটি দল থানা ওসির কক্ষে অবস্থান করে, যেখানে তারা থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হয়। এই উপস্থিতি এবং ঘেরাও আন্দোলনের নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করার আগে তিনি “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম” বলে একটি মন্তব্য করেন, যা গ্রেফতারের প্রায় বারো ঘণ্টা আগে প্রকাশিত হয়। এই বক্তব্যটি আন্দোলনের কিছু অংশের কঠোর রণনীতি এবং পুলিশের প্রতি বিরোধী মনোভাবকে প্রকাশ করে।

রাতের বেলা আদালতে জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর, আজ সকালে আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। বিচারককে এখন মামলার মূল দিক, বিশেষত অভিযোগিত অপরাধের প্রকৃতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জামিনের সম্ভাবনা, শর্তাবলী এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তির ওপর তদন্ত চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বও আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মাহদী হাসানের এই মামলা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। আদালতের পরবর্তী রায় এবং তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, এই সংঘাতের শেষ পর্যায় কী হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের ভবিষ্যৎ কৌশল কীভাবে গড়ে উঠবে।

৮৫/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলোBanglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments