একটি বেসরকারি সমীক্ষা অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের বেশিরভাগই বিএনপি‑কে পছন্দ করছেন। সমীক্ষা প্রকাশের সময় জানানো হয়েছে যে, ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপি‑কে ভোট দেবেন, আর জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনকারী ভোটার প্রায় ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ।
এই জরিপটি বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালনা করেছে এবং ফলাফল রাজধানীর ফার্মগেটের কেএইবি মিলনায়তনে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমীক্ষার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন।
ভোটের ইচ্ছা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে, তারা বিএনপি‑কে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে, ২৭ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার কথা উল্লেখ করেছেন, আর ৫ শতাংশের বেশি মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রত্যাশা জানাতে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়। তাতে ৭৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন যে, বিএনপি শীঘ্রই জয়ী হবে। জামায়াতে ইসলামীকে জয়ী হিসেবে দেখছেন ১৮ শতাংশ, ন্যাশনাল পার্টি (এনসিপি)কে ১.৭ শতাংশ, আর জাতীয় পার্টিকে ১ শতাংশের সামান্য বেশি ভোটার সমর্থন করছেন।
গত নির্বাচনে ভোটারদের আচরণও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ৩৫ শতাংশ মানুষ জানান যে, তারা পূর্বে বা এখনো বিএনপি‑কে ভোট দিতে চেয়েছেন। একই সময়ে ২৭ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছেন বা সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চাওয়া ভোটার ৫ শতাংশের বেশি।
প্রধানমন্ত্রীর পদে তরিক রহমানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে ৪৭ শতাংশ ভোটার তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। এই তথ্য ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংগ্রহ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে সমর্থন ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তাদের ভোটার ভিত্তি উল্লেখযোগ্য এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব রাখতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, তাদের সমর্থকরা মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত।
আওয়ামী লীগকে সমর্থনকারী ২৭ শতাংশ ভোটার মূলত শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় সমানভাবে বিতরণ হয়েছে। যদিও তাদের সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম, তবে ঐতিহাসিকভাবে তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জায়গায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে।
এই ফলাফলগুলো থেকে দেখা যায় যে, বিএনপি-কে ভোটারদের বৃহত্তম সমর্থন রয়েছে এবং তারা নির্বাচনী জয় অর্জনের জন্য শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে, জিআই ও আওয়ামী লীগের সমর্থনও নির্দিষ্ট অংশে দৃঢ়, যা নির্বাচনের ফলাফলকে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিটি দল এখন সমীক্ষার ফলাফলকে বিবেচনা করে তাদের প্রচার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে। ভোটারদের পছন্দের পরিবর্তন ও নতুন প্রার্থীর সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তারা তাদের বার্তা ও নীতি সমন্বয় করতে পারে।
অবশেষে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকায়, এই সমীক্ষা ভোটার প্রবণতা ও রাজনৈতিক গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে, যা পার্টিগুলোর জন্য কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে।



