রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঢাকা শহরের আগারগাঁওতে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি‑২ সম্মেলন কক্ষে ‘ফান্ডামেন্টালস অব ক্লাইমেট ফাইনান্স ফর ইয়ুথ ইন দ্য বাংলাদেশ কনটেক্স’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এই রেসিডেন্সিয়াল কোর্সটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও প্র্যাকটিক্যাল একশন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের যুবসমাজকে জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা। কর্মসূচিতে ইনস্টিটিউট অফ ক্লাইমেট চেঞ্জ, এনভায়রনমেন্ট এন্ড সাসটেইনেবিলিটি (আইসিসিইএস) এর তরুণ সদস্যরা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশ নেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ইআরডি অতিরিক্ত সচিব এ.কে.এম. সোহেল, আর প্র্যাকটিক্যাল একশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আইসিসিইএসের সভাপতি শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন উপস্থিত ছিলেন, যা প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বহুমুখী সমর্থনকে নির্দেশ করে।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু হল জলবায়ু অর্থায়নের মৌলিক নীতি, তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক কাঠামো। অংশগ্রহণকারীরা তত্ত্বগত জ্ঞান পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইডব্লিউএফএমের প্রফেসর এ.কে.এম. সাইফুল ইসলাম জলবায়ু বিজ্ঞান বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এর অর্থনৈতিক প্রভাব এবং তহবিলের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানসূত্র হিসেবে কাজ করে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময়সূচি এক মাসের বেশি সময়ের জন্য নির্ধারিত, যেখানে তাত্ত্বিক ক্লাস, ক্ষেত্রভিত্তিক অনুশীলন এবং প্রকল্প পরিকল্পনা সেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অংশগ্রহণকারীরা দলগতভাবে কাজ করে বাস্তবিক সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করবে, যা তাদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বাড়াবে।
ইআরডি ও প্র্যাকটিক্যাল একশন উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নের সচেতনতা বৃদ্ধি করা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ে এবং কর্মক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব আর্থিক মডেল প্রয়োগে সক্ষম হবে।
প্রশিক্ষণটি আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাস অনুসরণ করে তৈরি, যেখানে গ্লোবাল ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের নির্দেশিকা এবং জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিলের নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড সম্পর্কে অবগত হবে।
কোর্সের সমাপ্তির পর একটি সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে হবে। সেরা প্রস্তাবনাগুলোকে অতিরিক্ত তহবিল ও মেন্টরশিপের সুযোগ প্রদান করা হবে, যা তাদের উদ্যোগকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তা ইআরডি এবং প্র্যাকটিক্যাল একশন উভয়েরই অবদান, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য কোনো ফি না রেখে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হবে। এতে করে আর্থিক বাধা ছাড়াই অধিক সংখ্যক যুবক-যুবতী এই সুযোগ থেকে লাভবান হতে পারবে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন, তহবিল সংগ্রহ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই দক্ষতা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মানবসম্পদ গঠনের দিক থেকে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হলে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও আর্থিক সক্ষমতা আরও দৃঢ় হবে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, এমন প্রশিক্ষণ আপনার ক্যারিয়ার বা সম্প্রদায়ে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে? আপনার ভাবনা শেয়ার করুন এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ খুঁজে দেখুন।



