ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের গ্রেফতারের পর উভয় পক্ষকে সংযত থাকার নির্দেশ দিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি প্রতিনিধি কাজা কালাস ৪ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে উভয় দলকে শান্তি বজায় রাখতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের অধিকারকে সম্মান করতে আহ্বান জানিয়ে দেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছা ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়; জনগণের স্বায়ত্তশাসনই বর্তমান সংকটের সমাধান ও গণতন্ত্রের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে উৎসাহিত করেছে।
গত শনিবার রাতের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কারাকাসের কেন্দ্রীয় অংশে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং প্রথম মহিলা সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত দুজনই বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। এই অপারেশনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মাদুরোর গ্রেফতার কয়েক ঘণ্টা পর, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট রবিবার সকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে দেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণাপত্র জারি করে। এই সিদ্ধান্তকে দেশের সামরিক বাহিনী স্বীকৃতি প্রদান করেছে এবং রদ্রিগুয়েজের ক্ষমতায়নকে সমর্থন জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী একই সময়ে জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রদ্রিগুয়েজকে ৯০ দিনের জন্য অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, সামরিক বাহিনী এই ঘোষণাকে সমর্থন করছে এবং সাধারণ জনগণকে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছে যে পরিস্থিতি যদি আরও উত্তেজনা গ্রহণ করে তবে তা পুরো অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই উভয় পক্ষকে সংযত ও শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অনন্য সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে, মাদুরোর গ্রেফতার এবং রদ্রিগুয়েজের অস্থায়ী ক্ষমতায়ন দেশীয় রাজনৈতিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও বৈধতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রদ্রিগুয়েজের অস্থায়ী শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ৯০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের সময়সূচি, ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেনেজুয়েলার উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বজায় রাখবে। উভয় পক্ষকে আহ্বান করা হয়েছে যে তারা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে।



