বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা অনুষ্ঠানে ইশতেহার প্রকাশের পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন। তিনি ইশতেহারকে শীঘ্রই উপস্থাপন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই অনুষ্ঠানটি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করতে আয়োজিত হয়। উপস্থিতদের মধ্যে বিএনপি নেতারা, সমবায় দলের সদস্য ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দুদু এই সমাবেশে তার বক্তব্য রাখেন।
দুদু উল্লেখ করেন, গত রবিবার দলীয় একটি মিটিংয়ে তারা ইশতেহার প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। মিটিংয়ে মূল বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দলীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গঠন করা হয়। তিনি বলেন, ইশতেহারটি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
বিএনপি’র লক্ষ্য হল জাতীয়তাবাদী দলকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে তাদের সমর্থন অর্জন করা। এ লক্ষ্যে দলটি ভোট সংগ্রহের মাধ্যমে সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে চায়। ইশতেহারটি এই দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
দুদু তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, তরিক রহমানের ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রামকে উল্লেখ করেন। তরিকের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যতে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে এবং তরিক রহমান দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত হবেন। এই বিশ্বাস কেবল অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচনের ফলাফলেই তা স্পষ্ট হবে, তিনি যুক্তি দেন।
দুদু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য সকল দেশের নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ঐক্যই দেশের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল চাবিকাঠি হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলীয় নীতি ও কর্মসূচি গঠন করা হবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা অর্জন করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কখনো নির্বাচনে পরাজয় পাননি এবং তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো গ্রহণ করেননি।
তবে তিনি স্বীকার করেন, সামরিক শাসনের সময় বেগম জিয়াকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলো তার রাজনৈতিক জীবনের কঠিন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার অবদানকে তিনি বিশাল বলে উল্লেখ করেন। তার নেতৃত্বে দেশের নারীরা বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা পূর্বে অপ্রাপ্য ছিল। সামগ্রিকভাবে তিনি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দুদু শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, তার আত্মা শান্তিতে বিশ্রাম নিক। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তার আদর্শকে পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিএনপি’র এই মন্তব্যের পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ইশতেহার প্রকাশের বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্ব পেয়েছে।



