22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসাইফুল হক ‘মায়ের ডাক’ সভায় গুম‑খুনের শিকারদের কাঁদা বুড়িগঙ্গার চেয়ে বেশি

সাইফুল হক ‘মায়ের ডাক’ সভায় গুম‑খুনের শিকারদের কাঁদা বুড়িগঙ্গার চেয়ে বেশি

সাইফুল হক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা‑১২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সোমবার ঢাকার শাহীনবাগে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন। তিনি উল্লেখ করেন, গুম‑খুনের শিকারদের মা, বোন, স্ত্রীর কাঁদা যদি একত্রে সংগ্রহ করা হতো, তা বুড়িগঙ্গার পানির চেয়ে বেশি হবে। এই মন্তব্যের পেছনে তিনি ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিমাণ তুলে ধরতে চান।

সভাটি ‘মায়ের ডাক’ সংস্থার সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) পরিচালিত করেন এবং উপস্থিতদের মধ্যে সংস্থার সদস্য রমিজউদ্দীন রাজু সহ বহু গুম‑খুনের শিকার পরিবারের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সভার সূচনা করা হয় সম্প্রতি স্বর্গে প্রবেশ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা ও দোয়া দিয়ে।

সাইফুল হক ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় গুম, খুন এবং নির্যাতনের ব্যাপকতা নিয়ে বিশদভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের নাগরিককে গুম করা, ক্রসফায়ারে গুলি করা, হত্যা‑নির্যাতন করা বা আইনের আওতায় না এনে আয়নাঘরে নিয়ে যাওয়া কল্পনাতীত। তিনি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের গুরুত্বেও জোর দেন।

হক স্পষ্ট করেন, আজকের সভা কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নয়; এটি শুধুমাত্র একে অপরের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ। তিনি যুক্তি দেন, ‘মায়ের ডাক’ মত প্ল্যাটফর্মের অভাবে ফ্যাসিস্ট শাসনকে বিদায় জানানো কঠিন হতো। এই সংগঠনটি দেশের গুম‑খুনের ঘটনাগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সানজিদা ইসলাম (তুলি) সভায় বলেন, একজন শিক্ষিত ও মননশীল ব্যক্তি যখন সমাজের নেতৃত্বে আসেন, তা পুরো সমাজের জন্য আশীর্বাদ। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সাইফুল হককে বিএনপি থেকে মনোনীত করা হয়েছে এবং এই যাত্রা জনগণের জন্য, পরিবর্তনের জন্য। তিনি তাও উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে চলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের গুরুদায়িত্ব।

রোজমোজের সদস্য রমিজউদ্দীন রাজু ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তার বড় ভাই নিজামুদ্দিন মুন্নার গুমের ঘটনা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নিজামুদ্দিনকে রাজধানীর দক্ষিণ খানের একটি পার্ক থেকে তুলে নিয়ে গুম করা হয় এবং তারপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রমিজউদ্দীন জোর দিয়ে বলেন, তারা শুরুর থেকেই ‘মায়ের ডাক’ এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রমিজউদ্দীন আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যদি বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে গুমের শিকার পরিবারের জন্য শক্তিশালী নীতি গড়ে তুলবে এবং তাদের পাশে থাকবে। তিনি এই আশায় বলেন, গুম‑খুনের শিকারদের কণ্ঠস্বরকে শোনাতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে, গুম‑খুনের শিকারদের কষ্টের ব্যাপকতা ও তার সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি নিয়ে মতবিনিময় হয়। সাইফুল হক উল্লেখ করেন, গুম‑খুনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নজরে আনা এবং দেশের ভিতরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইনসভার কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি।

এই মতবিনিময় সভা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গুম‑খুনের সমস্যাকে কেন্দ্রীয় আলোচনায় নিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাইফুল হক, ‘মায়ের ডাক’ এবং গুম‑খুনের শিকার পরিবারের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের দৃষ্টিতে মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবে কাজ করতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments