সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল সিদ্ধান্ত হল, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সভা পরিচালনা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যিনি সভার শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপরে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি সভার আলোচনার সূচি ও গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অপরাধ প্রবণতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনা প্রধান অগ্রাধিকার পায়। নির্বাচনের পূর্বে এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, নিরাপত্তা গ্যাপ বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কেও আপডেট দেওয়া হয়। তদন্তের বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করা হয়।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২ এর কার্যক্রমের পর্যালোচনা করা হয়। সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর অবৈধ কার্যকলাপ দমন, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সুনির্দিষ্ট আক্রমণ পরিকল্পনা এই পর্যায়ে আলোচনা করা হয়।
অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্রের উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্যও সভায় উপস্থাপিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সনাক্ত ও বাজেয়াপ্ত করা অস্ত্রের পরিমাণ, সেগুলোর উৎস এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। মাদক সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙতে গোয়েন্দা তথ্য‑উপাত্তের সমন্বয়, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কেও আলোচনা হয়। সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সীমানা পারাপার এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শান্তি‑শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে পুনর্ব্যক্ত করে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি দেশব্যাপী বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও শেয়ারিং প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও তৎপর করার জন্য সমন্বিত নির্দেশনা জারি করা হয়। সব স্তরের বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য‑উপাত্ত একত্রিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচন‑সংক্রান্ত কর্মীদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল, নির্বাচন‑নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব বাহিনীর সমন্বিত কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য জনগণের সহযোগিতা আহ্বান করা হয়।
সভা শেষের দিকে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জোর দেওয়া হয়।



