28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককিউবান নাগরিক ৩২জন মার্কিন আক্রমণে নিহত, ভেনেজুয়েলা-কিউবা সম্পর্কের প্রভাব

কিউবান নাগরিক ৩২জন মার্কিন আক্রমণে নিহত, ভেনেজুয়েলা-কিউবা সম্পর্কের প্রভাব

শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরার উদ্দেশ্যে চালানো আক্রমণে কিউবান সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মী ৩২জন প্রাণ হারিয়েছেন। কিউবা সরকার এ ঘটনাকে তার নাগরিকের শোকের বিষয় হিসেবে ঘোষণা করে দুই দিন জাতীয় শোক পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিউবান সরকার জানিয়েছে, নিহতরা দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছিলেন। তবে কিউবান কর্তৃপক্ষের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই কর্মীদের ভেনেজুয়েলা মিশনে কী ভূমিকা ছিল তা বিশদে উল্লেখ করা হয়নি।

কিউবা ও ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার, যেখানে কিউবা তেল বিনিময়ে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে আসছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল উল্লেখ করেছেন, কিউবান বাহিনী ভেনেজুয়েলায় মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অনুরোধে কাজ করছিল। তিনি এ কথাকে দেশের দায়িত্ববোধ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সহকর্মীরা গর্ব ও বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শত্রুর সরাসরি মুখোমুখি লড়াই বা বোমা হামলার ফলে প্রাণ ত্যাগ করেছেন।” এই বাক্যটি কিউবান সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলান কর্তৃপক্ষ আক্রমণের সঠিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেননি, তবে মাদুরোর ক্যারাকাসের বাসভবনে আক্রমণটি ঘটার পর থেকে পরিস্থিতি অস্থির রয়ে গেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে অনামধেয় ভেনেজুয়েলান সূত্রের ভিত্তিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এই তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাইয়ের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনও মন্তব্য করেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ “কিউবা নিজেই পতনের পথে।” তিনি এ কথাকে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

ইউ.এস. স্টেটস সেক্রেটারি মার্কো রুবিওও কিউবাকে “বিপর্যয়” ও “অক্ষম, বয়স্ক নেতৃত্ব” হিসেবে বর্ণনা করে, যদি তিনি হাভানায় সরকারে থাকতেন তবে “কমপক্ষে কিছুটা উদ্বেগ” প্রকাশ করতেন। এই রূপকথা কিউবার শাসনব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরেছে।

জুলাই মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার জন্য একটি স্মারক স্বাক্ষর করেন, যা পূর্বের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শিথিল নীতিকে উল্টে দেয়। এই পদক্ষেপ কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিণতি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, উভয় দেশই শোকের সময়ে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের আগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালু করবে। পরবর্তী সপ্তাহে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের মিটিং এই উত্তেজনার মীমাংসা নির্ধারণ করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments