আজ সকাল প্রায় ১১ টায় গাজীপুরের পাবাইল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে টঙ্গি‑ভৈরব রেললাইন বরাবর চলমান ঢাকার দিকে যাত্রা করা এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেসের শেষ দুইটি কোচ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বৈধভাবে চলমান ট্রেনের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা রেলওয়ে কর্মীদের তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
বিচ্ছিন্ন হওয়া কোচগুলো ট্রেনের পেছনের অংশে অবস্থিত ছিল এবং ঘটনাটি ট্রেনটি পাবাইল স্টেশনের প্রবেশের ঠিক আগে ঘটেছে বলে জানা যায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানো রেলওয়ে কর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণ দল দ্রুত কাজ করে বিচ্ছিন্ন কোচগুলোকে নিরাপদে আলাদা করে এবং ট্রেনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্টেশন মাষ্টার মানিক মিয়া জানান, কোচগুলোর সংযোগস্থলে থাকা জয়েন্টগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে খুলে যাওয়ায় এই বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে কিনা তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
নরসিংদি রেলওয়ে পুলিশ আউটপোস্টের ইনস্পেক্টর নাজিম উদ্দিন জানান, বিচ্ছিন্ন কোচের ঘটনা বর্তমানে তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনায় কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি; কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
এই ধরনের অপ্রত্যাশিত রেল দুর্ঘটনা রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং রেল ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, বিচ্ছিন্ন কোচের কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ডের পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও জয়েন্টের মানদণ্ড কঠোর করা পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের জন্য এই ঘটনা ট্রেনের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে; রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গাজীপুর ও আশেপাশের এলাকায় রেল চলাচল দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ; তাই রেলওয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, আজকের বিচ্ছিন্ন কোচের ঘটনা রেলওয়ে অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে আহ্বান জানায়।



