সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন সুযোগের আলোকে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরিক রহমান গুলশানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন। ৫ জানুয়ারি বিকেলে, গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে তরিক রহমানের সঙ্গে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা সাক্ষাৎ করেন, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের সূচনায় যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুর শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে দেন। এই সমবেদনা প্রকাশের পর, তরিক রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই আমাদের ভিত্তি; একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের ঐতিহাসিক পরিচয়কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বামদলীয় নেতারা তরিক রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পুনরায় ক্ষমতায় আসা রোধের আহ্বান জানালেন। তারা যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এদিকে, তরিক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয় প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষের আলোচনায় দেখা যায় যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখা একসাথে কাজ করার মাধ্যমে সম্ভব। তরিক রহমানের মতে, অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা দরকার। অন্যদিকে, যুক্তফ্রন্টের নেতারা স্বাধীনতা বিরোধী কোনো গোষ্ঠীর পুনরায় ক্ষমতায় আসা রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, তরিক রহমান ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা শীঘ্রই একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার কথা বলছেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপ নিশ্চিত করা যায়। উভয় দলই স্বীকার করেছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর, যা একাত্তরের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে রক্ষা করবে।
এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রধান বিরোধী দল ও বামগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সমবায়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তরিক রহমানের জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি রক্ষার আহ্বান, পাশাপাশি যুক্তফ্রন্টের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পুনরায় ক্ষমতায় আসা রোধের দৃঢ় ইচ্ছা, ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বৈঠকের শেষে, তরিক রহমান ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার এবং দেশের স্বার্থে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ধরনের সমন্বয় যদি কার্যকর হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।



