রোববার রাত প্রায় সোয়া ৩টায় ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর, চন্দ্রিমা বাজারের নিউ রানা জুয়েলার্স নামের সোনার দোকানে ৭০ ভরি স্বর্ণ এবং ৬০০ ভরি রুপা চুরি হয়েছে। দোকান মালিক মাসুদ রানা পুলিশকে জানিয়ে দেন যে, চোরেরা সিন্দুকটি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় থানা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে।
মাসুদ রানা রোববার রাত ১১টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরের দিন সকাল দশটায় তিনি দোকানে ফিরে এসে দেখেন কেচি গেট ও সাটারের তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। দরজা খুলে সিন্দুকসহ শো-কেসে থাকা সব গয়না ও রুপা ছড়িয়ে আছে।
দোকানের সিন্দুকের ভিতরে মূলত স্বর্ণ ও রুপা সংরক্ষিত ছিল। মাসুদ রানা জানান, তার নিজস্ব ৫০ ভরি স্বর্ণ এবং বন্ধুর কাছ থেকে ধার করা ২০ ভরি স্বর্ণই সিন্দুকের মধ্যে ছিল। এছাড়া ৬০০ ভরি রুপা সম্পূর্ণভাবে চুরি হয়েছে।
চোরেরা সিন্দুকটি বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় শো-কেসের বাক্সগুলোও ভেঙে ফেলেছে। কিছু গয়না বাক্স বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দেখা যায়, তবে সিন্দুকটি শেষ পর্যন্ত বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।
মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, চোরেরা রুপা ও স্বর্ণের রশিদও চুরি করে নিয়ে গেছে, ফলে বিক্রয় রেকর্ডের প্রমাণও হারিয়ে গেছে। তিনি জানান, চুরি হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য এক কোটি পঞ্চাশ চার লাখ টাকা, আর রুপার মূল্য প্রায় বিশ এক লাখ ষাট হাজার টাকা।
দোকানের নগদ রেজার্ভের মধ্যে চার লাখ টাকা হারিয়ে যাওয়াও মালিকের জানানো তথ্যের মধ্যে রয়েছে। চোরেরা নগদ অর্থসহ গয়না চুরি করে পালিয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, চুরি সংক্রান্ত তদন্তে একাধিক পুলিশ টিম কাজ শুরু করেছে। তদন্তে চোরদের সনাক্তকরণ, সিন্দুকের চিহ্ন অনুসন্ধান এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, চোরেরা দ্রুতগতিতে দোকানের শো-কেসে রাখা গয়না ও রুপার বাক্সগুলো নামিয়ে নেয়। কিছু বাক্স বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সিন্দুকটি ভেঙে ফেলা হয়। এই ধরনের দ্রুত ও পরিকল্পিত চুরি অপরাধের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
মাসুদ রানা জানান, চোরদের দ্বারা চুরি হওয়া গয়না ও রুপার রশিদও চুরি হয়েছে, ফলে বিক্রয় রেকর্ডের প্রমাণ হারিয়ে গেছে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, চোরদের কার্যক্রমের সময় দোকানের সিকিউরিটি সিস্টেম কাজ করছিল না, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যে চোরদের সনাক্তকরণের জন্য ফোরেনসিক বিশ্লেষণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ এবং আশেপাশের ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, চোরদের সম্ভাব্য গন্তব্য ও বিক্রয় চ্যানেল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
চুরি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, চোরদের ধরার জন্য স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই চুরির ফলে গয়না ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



