19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় সামরিক অভিযানের হুমকি দেন, সহযোগিতা না করলে বড় মূল্য...

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় সামরিক অভিযানের হুমকি দেন, সহযোগিতা না করলে বড় মূল্য দিতে হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ভেনেজুয়েলায় পুনরায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করে সতর্কতা দেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান ভেনেজুয়েলায় দেলসি রদ্রিগুয়েজের নেতৃত্বে থাকা সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা মেনে না চলে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হবে এবং দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ চালানোর জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, রদ্রিগুয়েজের সরকার যদি তার প্রত্যাশা পূরণ না করে, তবে তার ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা মাদুরোর শাসনের সময়ের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কাছে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলায় পুনরায় অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয়।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছু নতুন কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে, যারা মাত্র শপথ নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং নির্ধারিত সময়ে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ইচ্ছা রয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি, তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি অটুট। এই দাবি পূর্বে বহুবার প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য ভেনেজুয়েলার সম্পদে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

গত শনিবার রাতের দিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সূত্র অনুযায়ী, মাদুরো দম্পতি বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি মাদুরোকে অপহরণকে “ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন” বা “সরকার পরিবর্তন” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি যুক্তি দেন, মাদুরোর শাসনকালে ভেনেজুয়েলা যে অবনতির পথে গিয়েছিল, তা থেকে দেশের উন্নতি সম্ভব ছিল না, তাই এই পদক্ষেপটি দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন, শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছে তা দেশের মঙ্গলের জন্যই হয়েছে।

এই হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থান ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে। রদ্রিগুয়েজের সরকারকে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলার সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের ফলাফল এবং নতুন শপথ নেওয়া কর্মকর্তাদের নীতি-নির্ধারণের দিক নির্ধারণ করবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ধারণের মূল বিষয় হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখনো এই পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে তা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন, তবে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার সম্পদ ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা এখনো অটুট।

৯০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকবিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments