রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি বাসস্থানে রাশিয়ান কর্মী একজনের মৃতদেহ সন্ধ্যায় পাওয়া যায়। ৩০ বছর বয়সী রায়বাক ম্যাক্সিম নামের কর্মীটি তার ডরমিটরিতে অচেনা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত现场ে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
সকালবেলা কর্মীর রুমমেট যখন ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি মৃতদেহের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। তৎক্ষণাৎ রুমমেট পুলিশকে জানায় এবং অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ মুমিনুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করেন। দেহটি উদ্ধার করার পরই পুলিশ তা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মরগে পাঠায়।
মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় রায়বাক ম্যাক্সিম, ৩০ বছর বয়সী, যিনি অ্যাটোমোটেক এনার্জি কোম্পানির কর্মী হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ করতেন। তিনি গ্রিন সিটির বিল্ডিং নং ৮, রুম নং ৩১-এ অবস্থান করতেন।
অফিসার‑ইন‑চার্জের মতে, কর্মীটি তার রুমমেটের প্রবেশের মুহূর্তে ইতিমধ্যে মৃত অবস্থায় ছিলেন। দেহটি উদ্ধার করার পরই পুলিশ তা দ্রুত মরগে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক পরীক্ষা চালায়।
ডাক্তারদের প্রাথমিক মন্তব্য অনুযায়ী, রায়বাকের মৃত্যুর কারণ হতে পারে স্ট্রোক। তবে এই অনুমানটি শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং নিশ্চিত নয়।
মৃতদেহের উপর পূর্ণাঙ্গ অটোপসি করা হয়েছে এবং ফলাফল পাবে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে। অটোপসি রিপোর্টের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
অটোপসি সম্পন্ন হওয়ার পর দেহটি প্রোটোকল অনুসারে রাত্রি শেষের দিকে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। দেহ হস্তান্তরের সময় কোনো অস্বাভাবিকতা বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশের বর্তমান তদন্তের মূল দিক হল দেহমুক্তির সময়ের পরিবেশ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি নির্ণয় করা। রায়বাকের কাজের পরিবেশ, শারীরিক অবস্থা এবং পূর্বের কোনো রোগের ইতিহাস তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অধিকন্তু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিভাগকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে এবং তারা কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশাসন কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। কর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে নতুন প্রোটোকল প্রণয়ন করা হতে পারে।
আইনি দিক থেকে, রায়বাকের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ তোলা হবে না। তবে পুলিশ অটোপসি ফলাফল পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয় আইনি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, যদি স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যের সমস্যার কারণে মৃত্যু নিশ্চিত হয়, তবে তা কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।
অধিকন্তু, রায়বাকের পরিবারকে আইনগত সহায়তা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করা হবে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিয়েছে। কর্মীরা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা চায়।
পুলিশের মতে, বর্তমানে কোনো অপরাধমূলক সূত্র পাওয়া যায়নি এবং দেহমুক্তির সময়ের পরিবেশগত কোনো অস্বাভাবিকতা রেকর্ড করা হয়নি।
তবে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করা হবে, যার মধ্যে কর্মস্থলের শর্ত, কাজের চাপ এবং পূর্বের স্বাস্থ্য রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত।
অটোপসি রিপোর্ট প্রকাশের পর রায়বাকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং তা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিভাগ কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগও ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কর্মস্থলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার পর রায়বাকের সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানায়। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষই দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
অবশেষে, রায়বাকের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ নির্ধারণের জন্য অটোপসি ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তা পাবার সঙ্গে সঙ্গে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



