বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার সোমবার একটি সভার পর আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) মৌসুমের সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই মৌসুমটি আগামী বছর ২৬ মার্চ শুরু হওয়ার কথা, এবং দেশের টেলিভিশন ও ডিজিটাল চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ থাকবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হল বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেএকেআর) দল থেকে বাদ পড়া। কেএকেআর দলকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিসি) থেকে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। মুস্তাফিজুরের দল থেকে অপসারণের পরপরই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মুস্তাফিজুরের বাদ পড়া আইপিএল খেলোয়াড়দের বেতন ও চুক্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যদিও সরকার স্পষ্টভাবে তার আর্থিক দায়িত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেনি, তবে আইপিএল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) সভার শেষে জানিয়েছে যে, দেশের আইপিএল স্টক সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।
এলওএবির এই বক্তব্যের অর্থ হল, আইপিএল গেমের সরঞ্জাম, লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপলব্ধ। তবে সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা মানে দর্শকরা সরাসরি ম্যাচের রিয়েল-টাইম দৃশ্য দেখতে পারবে না।
আইপিএল মৌসুমের সূচনা ২৬ মার্চ নির্ধারিত, এবং মোট ১৪০টি ম্যাচের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় অংশ নেবে।
বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অতিরিক্ত শর্ত বা সময়সীমা প্রকাশ করেনি। তবে সরকার উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানানো হবে।
বিসিসিসি কর্তৃক কেএকেআরের ওপর নির্দেশনা দেওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এই ঘটনা আইপিএল এবং বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে।
আইপিএল সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা দেশের ক্রীড়া ভক্তদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন ও সমালোচনা উভয় দিক থেকে প্রকাশ করছেন।
বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে আইপিএল ম্যাচের টিকিট বিক্রয় শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সম্প্রচার বন্ধের ফলে টিকিট বিক্রয়ের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিসিসিসি থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা চুক্তি পুনর্বিবেচনা হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, পূর্বে কিছু সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল যে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আইপিএলের কিছু ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করেছিল। তবে সেই সময়ে একটি বিসিসিসি কর্মকর্তা এই দাবিকে তুচ্ছ বলে মন্তব্য করে থাকেন।
সারসংক্ষেপে, অস্থায়ী সরকার আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের মাধ্যমে দেশের টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ম্যাচ দেখার সুযোগ সীমিত করেছে, এবং মুস্তাফিজুরের বাদ পড়া এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দীপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা সরকারী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।



