22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরসিংদীতে মাদকাসক্ত ভাইয়ের আঘাতে দুই ছোট ভাইয়ের হাতে মৃত্যু

নরসিংদীতে মাদকাসক্ত ভাইয়ের আঘাতে দুই ছোট ভাইয়ের হাতে মৃত্যু

নরসিংদী—রবিবার রাতের ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সী রমজান আলীর মৃত্যু ঘটেছে, যাকে তার দুই ছোট ভাই মোশারফ হোসেন ও মনির হোসেন আঘাত করে। ঘটনা মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নের পুরানচরে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে রমজান আলী ও তার ভাইদের মধ্যে তর্কের পর দেহী হিংসা দেখা দেয়।

রিপোর্ট অনুসারে, রমজান আলী নরসিংদীর একই গ্রাম থেকে, মুসা মিয়ার পুত্র, এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বহুবার তাকে নেশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ফলে রমজান আলী ও তার দুই ছোট ভাই—মোশারফ হোসেন ও মনির হোসেন—এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।

রবিবার রাতের সময়, রমজান আলী ও তার দুই ভাইয়ের মধ্যে কথোপকথন তীব্র হয়ে ওঠে। কথাবার্তা বাড়তে থাকায় শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে রমজান আলীকে ছোট ভাইদের আঘাত করে শারীরিক ক্ষতি হয়। আহত অবস্থায় রমজান আলীকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়, তবে তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে, রমজান আলীর পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকার কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর, চিকিৎসকগণ তার শ্বাস-প্রশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হন এবং তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে পোস্টমোর্টেমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

মৃতদেহের পরিদর্শন ও দেহীয় বিশ্লেষণের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, স্থানীয় পুলিশ ও থানা প্রধান ওসি কামাল হোসেনের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। ওসি কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রমজান আলীর মৃত্যু তার দুই ছোট ভাইয়ের আঘাতের ফলে ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় মানুষদের মতে, রমজান আলী মাদকাসক্তি নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিনের সমস্যার শিকার ছিলেন। পরিবারে বহুবার তাকে নেশা থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা করা হলেও, তার আসক্তি তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত এই হিংসাত্মক ঘটনার সূত্রপাত করে।

মৃতদেহের সঙ্গে সঙ্গে, রমজান আলীর স্ত্রী রাবিয়া বেগমের কণ্ঠে শোক ও ন্যায়বিচারের আহ্বান শোনা যায়। রাবিয়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে চারটি মেয়ে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স মাত্র এক বছর। তিনি স্বামীকে হারানোর শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও সঠিক বিচারের দাবি জানান।

রাবিয়া বেগমের মতে, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক ও মানসিক অবস্থা গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীকে হারিয়ে পরিবারে আর্থিক সহায়তার অভাব দেখা দেবে, এবং ছোট মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন করেন।

অধিক তদন্তের জন্য নরসিংদী থানার তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিবৃতি নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওসি কামাল হোসেন জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান, এবং সব প্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

পুলিশের মতে, রমজান আলীর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফল জানার পর, আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া তীব্র। প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা রমজান আলীর মাদকাসক্তি সমস্যার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, এবং একই সঙ্গে পরিবারকে সমর্থন করার আহ্বান জানায়। তারা উল্লেখ করেন, মাদক সমস্যার সমাধানে সামাজিক ও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, যাতে এধরনের হিংসা আর না ঘটে।

অধিকন্তু, নরসিংদী জেলার সামাজিক কর্মী ও স্বাস্থ্য বিভাগ মাদকাসক্তি মোকাবিলার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, মাদকাসক্তি সমস্যার সমাধান না হলে পরিবারিক সংঘর্ষে রক্তপাতের ঘটনা বাড়তে পারে।

এই ঘটনার পর, নরসিংদী থানার ওসি কামাল হোসেন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করবেন। তদন্ত শেষ হলে, ফলাফল ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments