ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকায় ঢাকা‑২০ (ধামরাই) আসনে ছয়জন প্রার্থীর নাম শেষবারের মতো নিশ্চিত হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত‑ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑জাসদ প্রত্যেকটি দল থেকে একজন করে প্রার্থী দাখিল করেছে। নির্বাচনী কমিশনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিবের অনুমোদনে সব ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক হিসেবে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের নাম উঠে এসেছে, যার মোট অস্থাবর সম্পদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি।
বিএনপি থেকে তমিজ উদ্দিন, জামায়াত‑ইসলামী থেকে মো. আব্দুর রউফ, জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নাবিলা তাসনিদ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস থেকে মো. আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টি থেকে আহছান খান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑জাসদ থেকে মো. আরজু মিয়া এই ছয়জন প্রার্থী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকের স্থায়ী ঠিকানা ধামরাইতে হলেও বেশিরভাগের বর্তমান বাসস্থান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খান সালমান হাবিবের মতে, মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে সব ছয়জনের প্রার্থীকে বৈধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের আর্থিক তথ্য প্রকাশে দেখা যায়, তার মোট অস্থাবর সম্পদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার উপরে, যার মধ্যে স্বামীর নামের সম্পদ ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার এবং অতিরিক্ত স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ টাকা, আর ভাড়া থেকে অতিরিক্ত ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা উপার্জন করে। তাছাড়া, ইসলামী ব্যাংকে তার ঋণ প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সমান, যা তার আর্থিক দায়বদ্ধতার একটি বড় অংশ গঠন করে।
তমিজ উদ্দিনের স্থায়ী ঠিকানা ধামরাইয়ের আইংগন এলাকায়, আর বর্তমান ঠিকানা গ্রীন রোডের একটি বাসা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পনেরোটি মামলায় খালাস পেয়েছেন, তবে বর্তমানে চারটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি, যেগুলো পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দায়ের করা হয়েছিল।
জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধ। তিনি তরমুজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন এবং তার মোট অস্থাবর সম্পদ এক কোটি বয়সী ৬২ লাখ টাকার বেশি। তার নির্ভরশীলদের নামে অতিরিক্ত ২৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে, আর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় তিন কোটি এগারো লাখ টাকার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের সম্পদ তালিকায় দেখা যায়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑জাসদ থেকে মনোনীত মো. আরজু মিয়া সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী, যদিও তার সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। জামায়াত‑ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও জাতীয় পার্টি থেকে দাখিল করা প্রার্থীদের সম্পদও রেকর্ডে রয়েছে, তবে তমিজ উদ্দিন ও নাবিলা তাসনিদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এই আর্থিক বৈষম্য নির্বাচনী প্রভাবের দিক থেকে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সম্পদশালী প্রার্থীর প্রচারাভিযান ও ভোটার সংযোগের সক্ষমতা সাধারণত বেশি বলে ধারণা করা হয়, ফলে ধামরাই আসনে ভোটারদের পছন্দের গতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে প্রতিটি দলের ভিত্তি ও স্থানীয় সংগঠনের শক্তি এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অবশেষে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় ধামরাই এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে সম্পদের পার্থক্য, পূর্বের আইনি ইতিহাস এবং পার্টির ভিত্তি সবই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল ধামরাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা‑২০ আসনের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



