একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজ উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে নির্বাচন কমিশনের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে সংবিধান ও আইন অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়, ফলে নির্বাচনের সময়সূচি রদ করা দরকার।
পিটিশনটি মি. মোঃ ইউনুস আলি আকন্দের নামে দাখিল হয়েছে, যাকে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ১১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে নির্বাচন কমিশন যে সময়সূচি প্রকাশ করেছে, তা স্থগিত করার জন্য উচ্চ আদালতকে অনুরোধ করেছেন। পিটিশনের মূল দাবি হল, নির্বাচনের জন্য কোনো সংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়।
আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রতিনিধিত্বের মানুষ আদেশ (RPO) উভয়ই অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত করে না। তাই, বর্তমান সরকার কাঠামোর অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত করা সংবিধানিক লঙ্ঘন হবে। তিনি উচ্চ আদালতকে নির্দেশ দিতে বলছেন, যেন নির্বাচন একটি তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়, যা স্বচ্ছতা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করবে।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি উচ্চ আদালত এই অনুরোধ মঞ্জুর করে, তবে নির্বাচন কমিশনকে নতুন সময়সূচি তৈরি করতে হবে এবং তদনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং ভোটার তালিকা, নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস ইত্যাদি বিষয়েও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
পিটিশনের শোনার তারিখ আগামীকাল নির্ধারিত হয়েছে। শোনার সময় আদালত পিটিশনের মূল যুক্তি, সংবিধানিক বিধান এবং নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের বৈধতা বিশ্লেষণ করবে। এই রিট পিটিশনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিরোধী দলগুলো নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান না করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করে।
নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে কিছু সংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
বিগত কয়েক মাসে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিছু দল দাবি করে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না, আর অন্যরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া কঠিন হবে বলে মত প্রকাশ করেছে।
এই পিটিশনের সঙ্গে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করা একটি অনুরূপ পিটিশনও রয়েছে, যা একই বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। উভয় পিটিশনই নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি রদ করার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি করে। উচ্চ আদালতের ভবিষ্যৎ রায় দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। গ্রিনল্যান্ড, যা পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত, প্রায় ২,১৬৬,০৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভৌগোলিক কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।



