19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল ক্রয় কমাতে না পারলে শুল্ক বাড়ানোর সতর্কতা জানালেন

ট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল ক্রয় কমাতে না পারলে শুল্ক বাড়ানোর সতর্কতা জানালেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ভারতকে রুশ তেল ক্রয় কমাতে না পারলে শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চান এবং ট্রাম্পের অসন্তোষ দূর করা গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি জানান, ভারত রুশ তেল কেনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব। তিনি যুক্তি দেন, “তারা বাণিজ্য করে, আর আমরা শুল্ক দ্রুত বাড়াতে পারি”। এই মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের শুল্ক নীতি স্মরণে আসে, যেখানে গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশে দ্বিগুণ করা হয়েছিল।

শুল্ক বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল রুশ তেল ক্রয়ের পরিমাণ, যা যুক্তরাষ্ট্রের রুশ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুল্কের পরেও নভেম্বর মাসে ভারতীয় রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পায়, যা বাণিজ্যিক সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দাবির প্রতি দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং কৃষি পণ্যের আমদানি সহ কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাতে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে, রুশ তেল ক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ পায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত রিফাইনারদের প্রতি রুশ ও আমেরিকান তেল ক্রয়ের সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, নতুন শুল্ক আলোচনার প্রেক্ষিতে রুশ কাঁচা তেল আমদানি এক মিলিয়ন ব্যারেল পার দিন সীমার নিচে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনিক আলাপচারিতা তিনবারের বেশি হয়েছে, তবে শুল্ক বিষয়ক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এই আলোচনার ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, যা দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।

গত মাসে, ভারতীয় বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগ্রওয়াল যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রিক সুইটজারের সঙ্গে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকে শুল্ক হ্রাস, কৃষি পণ্যের রপ্তানি এবং তেল ক্রয়ের শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও রুশ তেল ক্রয়ের ওপর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভারতীয় রিফাইনারদের কাছ থেকে রুশ তেল সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত শুল্কের শর্ত পূরণে অক্ষম হয়, তবে শুল্কের হার আরও বাড়তে পারে, যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।

এই পরিস্থিতিতে, ভারতীয় সরকার রুশ তেল ক্রয় কমাতে এবং শুল্কের প্রভাব কমাতে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি রুশ তেল ক্রয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

ভবিষ্যতে, দু’দেশের শুল্ক ও তেল নীতি কীভাবে সমন্বয় হবে, তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষের আলোচনার ফলাফল নির্ভর করবে শুল্কের হার, তেল ক্রয়ের পরিমাণ এবং কৃষি পণ্যের রপ্তানি শর্তের ওপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments