লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের উত্তর নুরুল্লাহপুর গ্রাম, কাজিরডগি এলাকায় সোমবার সকাল আটটার দিকে একটি ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পিকআপ ভ্যানের পেছন থেকে আঘাতের ফলে ১৫ বছর বয়সী মাটিবাহী শ্রমিক ফাহিমের প্রাণ ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ভ্যানটি দ্রুত গতি বজায় রেখে ফাহিমকে ধাক্কা দেয় এবং চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ফাহিমের পূর্ণ নাম কামাল হোসেনের ছেলে, দুলা হাজি বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, সে দৈনন্দিন জীবনে মাটি কাটার কাজ করে পরিবারের আয় বাড়াত। দুর্ঘটনার সময় সে কাজের জন্য মাঠে মাটি কাটছিল এবং হঠাৎ পেছন থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
সাক্ষী ও পুলিশ জানিয়েছেন, ফাহিম কাজের মাঝখানে যখন মাটি কাটছিল, তখন পিকআপ ভ্যানটি তার দিকে দ্রুত গতি বাড়িয়ে অচেনা পথে প্রবেশ করে। ভ্যানের চাকার নিচে পড়ে ফাহিমের দেহ ভেঙে যায় এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন। উপস্থিত লোকজনের তৎক্ষণাৎ ধাক্কা শোনার পর ভ্যানের চালক গাড়ি চালিয়ে দ্রুত সরে যায়।
দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করার পর প্রাথমিক তদন্তে চালকের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রেকর্ড করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের মতে, চালকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালিয়ে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া, মাটিবাহী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে। ফাহিমের পরিবার ও প্রতিবেশীরা তার অকাল মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য কঠোর ব্যবস্থা চায়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, মাটিবাহী শ্রমিকদের কাজের সময় রাস্তায় চলাচল করা গাড়িগুলোর প্রতি বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ভ্যানের ড্রাইভারের পরিচয়, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নং, এবং দুর্ঘটনার সময় গতি রেকর্ড সংগ্রহ করছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য গাড়ি ও সিভিলি সিটিজেনদের বিবরণও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়ের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারিত হলে তা জনসাধারণের জানানো হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় সরকার ও ট্রাফিক বিভাগকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, মাটিবাহী শ্রমিকদের কাজের সময় রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জন্য বিশেষ সিগন্যাল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।
দাসেরহাট থানা থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলাকালে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের আওতায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটাতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ণয় এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



