ডিপার্টমেন্ট অফ নার্সোটিক্স কন্ট্রোল (ডিএনসি) রংপুর বিভাগে গত বছর চলা নেশা-মুক্তি অভিযানকালে মোট ৩,১৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারের ঘটনা জানুয়ারি ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১ পর্যন্ত ৯,৯১০টি অপারেশনের ফলাফল, যেখানে ৩,০২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অপারেশনগুলো রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নিলফামারী, পঞ্চগড় ও থাকুরগাঁওসহ আটটি জেলায় দৈনিক ভিত্তিতে চালানো হচ্ছে। ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুদ হোসেনের মতে, মাদক ব্যবহারকারী, পাচারকারী, পরিবাহক বা তাদের সহযোগীদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এই অভিযানকে আরও তীব্র করা হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নারীদের গ্রেফতার সংখ্যা বাড়ার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে, যা মাদক পাচার নেটওয়ার্কের বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
এক বছরের মধ্যে ডিএনসি দল প্রায় ১০,৬০০ কেজি গাঁজা, ৪,৫০০ বোতল ফেনসেডিল, ৫০০ গ্রাম হেরোইন এবং প্রায় ৫,৫০০ ট্যাবলেট ইয়াবা সহ অন্যান্য দেশীয় ও বিদেশি অবৈধ মাদকের সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নগদ অর্থ, যানবাহন ও যোগাযোগ সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৮ লক্ষ টাকা নগদ, ১৮টি মোটরসাইকেল, তিনটি মাইক্রোবাস, তিনটি সিএনজি চালিত অটো-রিকশা, দশটি ইজি বাইক এবং ৬৪টি মোবাইল ফোন।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই যানবাহন ও ডিভাইসগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন, লেনদেন ও পাচারকারীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী রংপুর বিভাগকে মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাই এই ধরণের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা অপরিহার্য বলে তারা জোর দিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় নওডাঙ্গা এলাকায় শিক্ষক শাহিদার রহমানের মতে, সীমান্তে শক্তিশালী মাদক সিন্দুক গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গরিব পরিবারের নারীরা প্রায়ই এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে মাদক সমস্যার জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
দায়ের দিক থেকে, দায়ের করা ৩,০২৭টি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাগুলো শোনার পর, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিএনসি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সীমান্তে মাদক প্রবাহ রোধে স্থানীয় গোষ্ঠী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে রংপুর বিভাগে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের হার কমানো এবং সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা লক্ষ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, নারীদের অংশগ্রহণের কারণগুলো সমাধান না করা পর্যন্ত মাদক পাচার নেটওয়ার্কের বিস্তার রোধ করা কঠিন। তাই সামাজিক কল্যাণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।
ডিএনসির এই ব্যাপক অভিযান এবং তদনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া দেশের মাদক বিরোধী নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত কাজের মাধ্যমে রংপুর বিভাগে মাদক সমস্যার মূলধারাকে দমন করা সম্ভব হবে।



