ইংল্যান্ডের একটি মসজিদে প্রতি বৃহস্পতিবার ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণদের জন্য পিলাটিস ভিত্তিক ব্যায়াম ক্লাস চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল বয়স্কদের একাকিত্ব কমিয়ে শারীরিক নমনীয়তা বাড়ানো এবং মসজিদকে সম্প্রদায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ক্লাসটি স্থানীয় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কে উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরছে এবং এখন দেশের অন্যান্য মসজিদে পুনরায় গ্রহণের জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল বয়স্কদের ঘরের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে এসে একটি সক্রিয় সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদকে শুধুমাত্র নামাজের স্থান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি হাবের রূপ দিতে তারা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন দেখছিলেন।
প্রতিটি সেশনে প্রশিক্ষক জারা কায়ানি পিলাটিসের মৌলিক নড়াচড়া নির্দেশ করেন, যা পিঠের ব্যথা কমাতে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অংশগ্রহণকারীরা ব্যায়াম শেষে ফল, চা এবং বিস্কুটের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ক্লাসে অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী আবিদ খান, যিনি ২০২৪ সালে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন, জানান যে নিয়মিত পিলাটিস তাকে শারীরিকভাবে পুনরুদ্ধার করতে এবং মানসিকভাবে পুনর্জীবিত হতে সাহায্য করেছে। একইভাবে, ৬০ বছর বয়সী হাবিব রেহমান, যিনি দীর্ঘদিন সায়াটিকা ব্যথায় ভুগছিলেন, এখন নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে ব্যথা কমে এসেছে এবং তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
ক্লাসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ার ফলে বর্তমানে ২৫ জনের বেশি সদস্য রয়েছে, ফলে নতুন ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, মসজিদের পাশে একটি নতুন ভবন নির্মাণাধীন, যা সম্পন্ন হলে বড় পরিসরে প্রবীণ ও নারীদের জন্য বিশেষ ব্যায়াম সেশন চালু করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগটি আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয়কে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করছে। পিলাটিসের মাধ্যমে শারীরিক নমনীয়তা, পিঠের ব্যথা হ্রাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বয়স্কদের জীবনের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মসজিদে পরিচালিত এই সেশনগুলোতে অংশগ্রহণকারী বয়স্করা সামাজিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা একাকিত্বের অনুভূতি কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ফল ও চা-বিস্কুটের সঙ্গে ছোটখাটো আলাপচারিতা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত সমর্থন প্রদান করে।
প্রশিক্ষক জারা কায়ানি ব্যাখ্যা করেন, পিলাটিসের মূল নীতি হল শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সমন্বিত নড়াচড়া, যা শরীরের গভীর পেশীকে সক্রিয় করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এই পদ্ধতি বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী, কারণ এটি হালকা হলেও কার্যকরী ফলাফল দেয়।
মসজিদ কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন বয়সের জন্য উপযোগী ব্যায়াম প্রোগ্রাম চালু করা হবে, যাতে তরুণ ও মধ্যবয়স্ক সদস্যরাও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, নারীদের জন্য আলাদা সেশন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্প্রদায়ের সব স্তরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা প্রচার করবে।
এই ধরনের সম্প্রদায়িক স্বাস্থ্য উদ্যোগের সফলতা দেখিয়ে দেয় যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। মসজিদে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব, যা সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তি গড়ে তোলে।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা অনুভব করেন, তবে স্থানীয় ধর্মীয় বা কমিউনিটি কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রোগ্রামগুলো অনুসন্ধান করা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, সঠিক পুষ্টি এবং সামাজিক মেলবন্ধন একসঙ্গে আপনার জীবনমানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।



