ঝিনাইদহ সদর থানায় গত রোববার সন্ধ্যায় এক নারীকে রেস্তোরাঁর সামনে থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দগ্ধ করার অভিযোগে তার প্রাক্তন স্বামী, স্বামীর ছোট ভাই এবং অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে ঝিনাইদহের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ভুক্তভোগীর বাড়ি শৈলকুপা উপজেলায় এবং তিনি পূর্বে মো. নাজমুল খন্দকারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। বিবাহবিচ্ছেদ ১ জানুয়ারি কার্যকর হয় এবং তার আগে শৈলকুপা থানায় তিনবার সালিসের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন তিনি ঝিনাইদহ সদর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষ করে রিকশা অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ একটি সাদা মাইক্রোবাসে কয়েকজন তাকে জোর করে তুলে নিল এবং কাপড় দিয়ে চোখ ও মুখ বেঁধে বিভিন্ন দিক দিয়ে ঘোরাতে থাকে। গাড়ির ভেতরে তার স্বামী নাজমুল খন্দকার, স্বামীর ছোট ভাই শওকত খন্দকার এবং আরেকজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী জানান, স্বামী তাকে ধর্ষণ করে এবং সিগারেট ও মোমবাতির আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে দগ্ধ করে। এরপর তাকে রেস্তোরাঁর পাশে অবস্থিত খালের ওপর নিয়ে গিয়ে সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পথচারীদের হস্তক্ষেপে তাকে রেস্তোরাঁর কাছাকাছি একটি খাল থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাঃ রাজীব চক্রবর্তী জানান, ভুক্তভোগীর গোপনাঙ্গ, বুকে ও শরীরের সংবেদনশীল অংশে দগ্ধের ফলে গোলাকার ক্ষত দেখা গেছে। ভর্তি হওয়ার সময় তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করছিলেন এবং বর্তমানে গাইনিকোলজি বিভাগে চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তালাকের পরেও স্বামী ও তার পরিবার তাকে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করেছে। তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওয়াইস-কমিশনার মো. সামসুল আরেফিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রেকর্ড করা হয়েছে এবং মামলায় নাজমুল খন্দকার, শওকত খন্দকার এবং অজ্ঞাত এক অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্তরা পলায়ন করেছে, তাই তাদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, রেকর্ড করা FIR অনুযায়ী অপরাধের ধরণে ধর্ষণ, দগ্ধ করা, আত্মহত্যা প্রচেষ্টা এবং মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়ার অধীনে পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই মামলায় অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি শৈলকুপা থানায় তিনবার সালিসের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলেন, তবে তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



