সোমবার সন্ধ্যায় টামিল চলচ্চিত্র ‘প্যারাসক্তি’র ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে, যা সিভাকার্থিকেয়ন, রবি মোহন, অথারভা এবং তামিল ডেবিউকারী শ্রীলিলাকে মুখ্য ভূমিকায় দেখায়। ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ছবির পংগল ছুটিতে মুক্তি এবং থালাপতি ভিকির ‘জনা নায়গান’ সঙ্গে বক্স অফিসের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে।
ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শক ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে; সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার ও মন্তব্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, পটভূমি সঙ্গীত এবং সময়ের সঠিক পুনর্নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রথম দর্শনেই ছবির উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‘প্যারাসক্তি’তে সিভাকার্থিকেয়নের পাশাপাশি রবি মোহন, অথারভা এবং শ্রীলিলার পাশাপাশি দেব রামনাথ, পৃথ্বি রাজন, গুরু সোমাসুন্দরাম, বাসিল জোসেফ, পাপ্রি ঘোষ এবং রানা দাগগুবতি সহ এক বিশাল কাস্ট যুক্ত হয়েছে। এই কাস্টের সমন্বয় ছবির বর্ণনাকে বহুমাত্রিক করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিত্রের কাহিনী ১৯৬০-এর দশকের তামিলনাড়ুতে ঘটিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে স্থাপিত, যখন হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার প্রস্তাবের পর দেশব্যাপী তীব্র বিতর্ক উন্মোচিত হয়। সেই সময়ের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছবির মূল থিম গড়ে উঠেছে।
চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে তামিলনাড়ুতে ভাষা আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রতিবাদকারীরা হিন্দি-ভাষী জনগণের প্রতি কোনো বিরোধিতা না করে একাধিক ভাষার সমান মর্যাদা দাবী করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ঐতিহাসিক নথি ও সাক্ষ্য থেকে স্পষ্ট, এবং ছবির ট্রেলারে তা সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ট্রেলারে কিছু দৃশ্যের মাধ্যমে তীব্র নাটকীয়তা, আদর্শগত সংঘর্ষ এবং আবেগময় মুহূর্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা দর্শকদের ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে প্রতিবাদকারীদের মুখে দৃঢ়তা ও সংগ্রামের চিত্রণ ছবির মূল আকর্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘প্যারাসক্তি’তে গ. ভি. প্রাকাশ কুমার সঙ্গীত রচনা করেছেন, যার ফলে পটভূমি সুরে ঐতিহাসিক সময়ের স্বাদ যোগ হবে বলে ধারণা করা যায়। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ চিত্রনির্মাতা রবি কে. চন্দ্রন, আর সম্পাদনা কাজ পরিচালনা করছেন সাথিশ সুরিয়া, যাঁদের কাজ ছবির গতি ও গুণগত মানকে সমৃদ্ধ করবে।
ছবিটি পংগল উৎসবের সময় বড় স্ক্রিনে আসবে, যা একই সময়ে থালাপতি ভিকির ‘জনা নায়গান’ও মুক্তি পাবে। উভয় ছবিই বড় বাজেটের সঙ্গে তৈরি, এবং দুটোই টামিল সিনেমার প্রধান তারকা নিয়ে গঠিত, ফলে বক্স অফিসে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত।
ট্রেলার অডিও লঞ্চের সময় সিভাকার্থিকেয়ন প্রকাশ্যে জানান যে তিনি পংগলে দুটো বড় ছবি একই সঙ্গে মুক্তি পাবে জেনে অবাক হয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী আলোচনার কিছু দিক শেয়ার করেন, যা শিল্পের মধ্যে এই ধরনের সমসাময়িক সংঘাতের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
‘প্যারাসক্তি’ তামিল চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিককে আধুনিক সিনেমাটিক ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা এটি করে। তাছাড়া, শ্রীলিলার টামিল ডেবিউ এবং রানা দাগগুবতির অংশগ্রহণ ছবির আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রকাশনা সংস্থা এবং চলচ্চিত্র উত্পাদন দল উভয়ই ছবির মুক্তির পূর্বে অতিরিক্ত প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যাতে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বজায় থাকে। পংগল ছুটিতে দুটো বড় ছবি একসঙ্গে আসা টামিল সিনেমার জন্য একটি রোমাঞ্চকর সময়ের সূচনা করবে, এবং দর্শকরা কোন ছবির দিকে বেশি আকৃষ্ট হবে তা সময়ই বলবে।



