প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আজ (১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের আপিল বুথ পরিদর্শন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশকে সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সকলের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
সিইসি আজকের দিন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরোধে আপিল গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়ে দেন। আপিলের আবেদনগুলো ১০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে ধারাবাহিকভাবে শোনা হবে এবং প্রথম শোনার তারিখই আজ।
বুথ ব্যবস্থা দেশের দশটি নির্বাচনী অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। রংপুর (আসন ১-৩৩) থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম (আসন ২৭৮-৩০০) পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ নির্ধারিত হয়েছে: রংপুরে বুথ‑১, রাজশাহীতে বুথ‑২, খুলনায় বুথ‑৩, বরিশালে বুথ‑৪, ময়মনসিংহে বুথ‑৫, ঢাকায় বুথ‑৬, ফরিদপুরে বুথ‑৭, সিলেটে বুথ‑৮, কুমিল্লায় বুথ‑৯ এবং চট্টগ্রামে বুথ‑১০।
শুনানির সময়সূচি সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এবং নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী প্রতিদিন চলবে। প্রথম শোনার দিন ১০ জানুয়ারি এবং শেষ শোনার দিন ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত, তবে আপিলের সংখ্যা ও পরিস্থিতি অনুসারে সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি, পাশাপাশি আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। এই শর্তাবলী নিশ্চিত করে যে আপিল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হবে।
সিইসি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরিবেশে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদী যে, আপিল শোনার মাধ্যমে যে কোনো বিরোধ সমাধান হয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত হবে।
এই আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে শোনানির ধারাবাহিকতা এবং আপিলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে কমিশন সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিইসির এই মন্তব্য এবং আপিল শোনার সূচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।



