রবিবার মরোক্কোর রাজধানী রাবাতের প্রিন্স মুলে আবদেলাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস (এএফসিএন) রাউন্ড‑১৬ ম্যাচে মরোক্কো ১-০ স্কোরে তানজানিয়াকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। গলটি ৬৪তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ব্রাহিম দিয়াজের শট দিয়ে নেমে আসে, যা দলকে অর্ধেক সময়ের পরেই জয় নিশ্চিত করে। একই ম্যাচে ক্যামেরুন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ স্কোরে হারিয়ে হোস্ট মরোক্কোর পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে রাউন্ড‑১৬ে অগ্রসর হয়েছে।
ব্রাহিম দিয়াজের গলটি তার এএফসিএন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ধারাবাহিক ম্যাচে স্কোর করার রেকর্ড ভাঙে; তিনি পূর্বের তিনটি গ্রুপ ম্যাচে প্রত্যেকটিতে এক করে গল করেছেন এবং এই গল দিয়ে মরোক্কোকে চারটি ধারাবাহিক এএফসিএন গলে রাখেন। গল করার পর দিয়াজ তার দলের আঘাতপ্রাপ্ত মিডফিল্ডার আজেজিন ওউনাহির শার্ট তুলে ধরা একটি উদযাপন করেন, যিনি ক্যালফ ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে অংশ নিতে পারবেন না।
দলীয় সহায়তা দান করেন পিএসজি ডিফেন্ডার আচারাফ হাকিমি, যিনি অ্যানকেল ইনজুরির পর পুনরুদ্ধার শেষে টুর্নামেন্টের প্রথম স্টার্টে উপস্থিত হয়ে গলটিকে অ্যাসিস্ট করেন। হাকিমি গলটির আগে ফ্রি-কিক নেয়া সময় ক্রসবারে আঘাত করেন, তবে শেষ পর্যন্ত দিয়াজের শট গলপোস্টের নিচে দিয়ে নেটের মধ্যে প্রবেশ করে।
মরোক্কোকে হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা, প্রায় ৭০,০০০ দর্শকের উত্সাহ এবং বিশ্ব র্যাংকিংয়ে তানজানিয়ার তুলনায় ১০১ স্থান উপরে থাকা অবস্থানকে শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তবুও তানজানিয়া ৩য় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায়; সাইমন মসুয়া সেলেমানি মওয়ালিমুয়ের ক্রসকে ভুলে যায়, ফলে শটটি লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হয়।
মরোক্কোর প্রথম আধায়ে ১৫ মিনিটে একটি সম্ভাব্য গল হয়; ইসমাইল সাইবারি আব্দেসসামাদ এজালজৌলির ফ্রি-কিককে হেড করে হুসেইন মাসারাঙ্গার গলপোস্টের দিকে পাঠায়, তবে অফসাইড রুলের ভিত্তিতে রেফারিরা গলটি বাতিল করে।
দ্বিতীয় আধায়ে তানজানিয়ার চাপ বাড়ে, হাকিমি আবার ফ্রি-কিক নেয়া সময় ক্রসবারে আঘাত করেন, তবে গলটি এখনও না আসে। শেষ পর্যন্ত দিয়াজের গলটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে, এবং মরোক্কো ২৩ ম্যাচের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, যার শেষ পরাজয় ছিল ২০২৪ এএফসিএন-এ দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে।
ক্যামেরুনের রাউন্ড‑১৬ জয়টি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে অর্জিত হয়; এই জয়টি হোস্ট মরোক্কোর সামনে একটি কঠিন প্রতিপক্ষের ইঙ্গিত দেয়। ক্যামেরুনের জয়কে দলীয় কৌশল ও আক্রমণাত্মক দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যদিও ম্যাচের বিশদ বিবরণ মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
পরবর্তী রাউন্ড‑১৬ে মরোক্কো ও ক্যামেরুনের মুখোমুখি হওয়া নির্ধারিত হয়েছে, যা এএফসিএন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ হবে। উভয় দলই হোম ও ভিজিটিং ফ্যানের সমর্থন পাবে, এবং টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।
মরোক্কোর কোচ টিমের কৌশলগত পরিবর্তন ও খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। হাকিমির পুনরুদ্ধার ও দিয়াজের ধারাবাহিক গলিং ক্ষমতা দলকে আক্রমণাত্মকভাবে শক্তিশালী করেছে।
তানজানিয়ার জন্য এই পরাজয়টি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার স্বপ্নকে ভেঙে দেয়; যদিও তারা প্রথম আধায়ে সুযোগ পেয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত গল না করতে পেরেছে। দলটি পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে।
মরোক্কোর অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ডে এখন ২৩ ম্যাচের জয় ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি মাইলফলক। এই ধারাবাহিকতা টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।
এএফসিএন কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি অনুযায়ী, মরোক্কো ও ক্যামেরুনের ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে, এবং উভয় দলের ভক্তরা এই গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি প্রত্যাশা করে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত কে শিরোপা জিতবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে মরোক্কোর বর্তমান ফর্ম তাকে শিরোপা প্রার্থনা হিসেবে উজ্জ্বল করে তুলেছে।



