বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ‑মুলাদী) সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা অর্জন করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী এলাকায় কর্মী‑সমর্থকদের সঙ্গে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন, যেখানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
সমাবেশের সময় ফুয়াদ জনসাধারণের টাকায় জনমুখী রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং আর্থিক সহায়তা চাওয়ার জন্য নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, বিকাশ ও নগদ নম্বরসহ, ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে সমর্থকদের অবদান গ্রহণ করা তার রাজনৈতিক নীতি।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান নোমরহাটের বাসিন্দা নাইমুল হোসেন ফুয়াদের এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, অনেক রাজনীতিবিদ স্বল্প সময়ে বিশাল সম্পদ অর্জন করলেও তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা গোপন রাখে; ফুয়াদ তার স্বচ্ছতা দিয়ে একটি উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, যদি জনগণের সহায়তায় নির্বাচিত হন, তবে তার দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলিও এই সময়ে তাদের প্রার্থী ও কর্মসূচি তুলে ধরছে। অন্যান্য প্রার্থীরা সমর্থকদের কাছ থেকে স্বেচ্ছা দান ও স্বেচ্ছাসেবী সেবা আহ্বান করে, তবে ফুয়াদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রকাশের পদ্ধতি এখন পর্যন্ত অনন্য বলে মনে করা হচ্ছে। এই পার্থক্য ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকগণও ফুয়াদের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন, আর্থিক সহায়তা গ্রহণের শর্তে প্রার্থীর নীতি ও কর্মপরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জানানো দরকার।
ফুয়াদ সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ব্যাংক বিবরণে নগদ ও বিকাশের নম্বর উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা নগদ লেনদেনের সহজতা বাড়াতে লক্ষ্য। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি ভোটারদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানকে সহজ করবে এবং কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন কমাবে।
বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর ফুয়াদের ক্যাম্পেইন দল দ্রুত গতি বাড়িয়ে, গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে নিজের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
প্রতিপক্ষের মন্তব্যে দেখা যায়, অন্যান্য প্রার্থীরা ফুয়াদের এই পদ্ধতিকে ‘অপ্রচলিত’ বলে সমালোচনা করছেন, তবে একই সঙ্গে স্বীকার করছেন যে স্বচ্ছতা ভোটারদের আস্থা অর্জনের মূল চাবিকাঠি। তারা নিজেদের আর্থিক সংগ্রহের পদ্ধতি গোপনীয় রাখার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফুয়াদের এই আর্থিক আহ্বান তার ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন তহবিলের উৎস তৈরি করতে পারে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে এটি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিতে পারে, যে নির্বাচনের পর তিনি এই তহবিলের ব্যবহার স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করবেন।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, ফুয়াদের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের তহবিল ব্যবহারের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে তার আর্থিক সহায়তা গ্রহণের পদ্ধতি ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য রেফারেন্স হতে পারে।
সর্বশেষে, ফুয়াদের ক্যাম্পেইন দল জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক সেবার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়, তাই তিনি সর্বদা জনগণের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখবেন।



