গাজীপুর মহানগর যুবদল কর্মী আবু নাহিদ (হাসান নাহিদ), ৩৫ বছর বয়সী, ২৮ ডিসেম্বর রাত ৯ টার দিকে হাড়িনাল বাজারে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের শিকার হন। আক্রমণের সময় তার ১১ বছর বয়সী সন্তান উপস্থিত ছিল এবং ঘটনাস্থলেই নাহিদকে গুরুতর আঘাত লেগে শয্যায় শয্যা পেতে হয়।
নাহিদ গাজীপুর নগরীর হাড়িনাল উত্তরপাড়া এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে এবং গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের কর্মী ছিলেন। তিনি গাজীপুর মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্থানীয় যুব আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
আক্রমণের পর নাহিদকে দ্রুতই শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শল্যচিকিৎসা শুরু হয়, তবে রক্তক্ষরণ ও আঘাতের তীব্রতা চিকিৎসা দলকে উদ্বিগ্ন করে। চিকিৎসকের পরামর্শে নাহিদের অবস্থা উন্নত না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নাহিদকে তীব্র পর্যবেক্ষণ ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ফলে শারীরিক ক্ষতি অপরিবর্তনীয় ছিল এবং রোগীর অবস্থা ধারাবাহিকভাবে খারাপ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত, রবিবার দুপুরে নাহিদের মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রাজু নাহিদের মৃত্যুর পর গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নাহিদকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোদ্ধা এবং কঠিন সময়ে সাহসী সৈনিক হিসেবে বর্ণনা করেন। রাজু উল্লেখ করেন যে নাহিদের সন্তানও এই ঘটনার শিকার হয়েছে এবং পরিবারকে সমর্থন ও সহানুভূতি জানাতে সকলের আহ্বান জানান।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২৯ ডিসেম্বর গাজীপুর মহানগর শ্রমিকদের একাংশের নেতা নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে সন্দেহভাজনরা নাহিদের আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।
অসামিরা মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা তদন্তের অধীনে রাখা হয়েছে, তবে তারা ইতিমধ্যে থানায় হেফাজতে আনা হয়েছে।
বাকি সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান অভিযান চালু রয়েছে। ওসি উল্লেখ করেন যে পুলিশ দল গ্রেপ্তারী আদেশ কার্যকর করার জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর গাজীপুরের স্থানীয় সম্প্রদায় ও যুব সংগঠনগুলো নাহিদের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



