টেলিগু চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় তারকা নন্দমূরি বলকৃষ্ণের সঙ্গে নায়ান্থারার যুক্ত একটি উচ্চ বাজেটের প্রকল্প এখন বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন ছবিতে নায়ান্থারার অংশ বাদ পড়বে এবং প্রযোজকরা স্কেলড‑ডাউন পরিকল্পনা অনুসরণ করবে। শিল্পের বর্তমান আর্থিক চাপকে বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে একাধিক ব্যর্থ ছবির পর টেলিগু চলচ্চিত্র শিল্পে মন্দা দেখা দিয়েছে। উচ্চ পারিশ্রমিক দাবি করা এ‑লিস্ট অভিনেতাদের জন্য প্রযোজকরা স্বেচ্ছায় বেতন কমানোর অনুরোধ করছেন, যাতে আর্থিক অশান্তি বাড়তে না পারে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পের সামগ্রিক ব্যয় হ্রাসের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত বছর প্রকাশিত “অখন্ডা ২” ছবিটি বিশাল ব্যয় সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি। এর ব্যর্থতা থেকে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি ২০২৬ সালের উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীরা এখন অধিক সতর্কতার সঙ্গে নতুন প্রকল্পের বাজেট নির্ধারণ করছেন।
পরিচিত পরিচালক গোপিচন্দ মালিনেনি মূলত নন্দমূরি বলকৃষ্ণ এবং নায়ান্থারার সঙ্গে একটি মহাকাব্যিক পোষাক নাটক তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই প্রকল্পটি দুজনের সম্মিলিত উপস্থিতি এবং বিশাল সেটের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রাখে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এই পরিকল্পনাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
মালিনেনি এখন নন্দমূরি বলকৃষ্ণের সঙ্গে একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন, তবে তা পূর্বের তুলনায় কম ব্যয়ের হবে। ছবির স্কেল ও উৎপাদন মানকে সামঞ্জস্য করে খরচ কমানো হবে। ফলে নায়ান্থারার অংশগ্রহণ সম্ভব না হওয়ায় তার নাম প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছে।
নায়ান্থারার পারিশ্রমিক প্রায় দশ কোটি রুপি, যা বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। প্রযোজকরা এই পরিমাণকে আর্থিকভাবে বহন করতে অক্ষম বলে জানিয়েছেন। তাই তার চুক্তি বাতিল করে বাজেটের সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়েছে।
এই ঘটনা টেলিগু চলচ্চিত্রের বৃহৎ বাজেটের প্রকল্পগুলোতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অভিনেতারা এখন স্বেচ্ছায় বেতন কমাতে ইচ্ছুক, যাতে প্রযোজকদের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এই ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভক্তদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ভক্ত নায়ান্থারার অনুপস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার অন্যরা শিল্পের আর্থিক বাস্তবতা স্বীকার করে সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে আলোচনা তীব্রভাবে চলতে থাকে।
নতুন ছবির শুটিং শিডিউল এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রযোজকরা আশা করছেন যে কম বাজেটের সত্ত্বেও তা সফল হবে। স্কেলড‑ডাউন পরিকল্পনা সৃজনশীল দিক থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। চলচ্চিত্রের গুণগত মান বজায় রেখে খরচ কমানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বৃহৎ বাজেটের চলচ্চিত্রগুলোতে বাজেট সংকটের ফলে কাস্টিং ও প্রোডাকশন ডিজাইনে পরিবর্তন আনা সাধারণ হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা অন্যান্য প্রযোজক সংস্থার জন্যও সতর্কতা স্বরূপ। ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রে সাশ্রয়ী মডেল



