রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেন, যখন তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ওয়াশিংটন ফিরে আসছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই আর্কটিক দ্বীপের কৌশলগত অবস্থান জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডেনমার্কের বর্তমান নীতি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দূরে রাখবে, তাই যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলটি অর্জন করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী কেটি মিলার, যিনি তার স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন, সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের পতাকার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙের একটি ছবি শেয়ার করেন এবং “শীঘ্রই” শিরোনাম যুক্ত করেন। এই পোস্টটি ট্রাম্পের ঘোষণার পরই প্রকাশিত হয়।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রবিবার একটি বিবৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দাবিকে অযৌক্তিক বলে খণ্ডন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক মিত্রকে হুমকি না দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধ প্রকাশ করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করার দাবি করেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে নিকোলাস মাদুরো নিউ ইয়র্কে আটক হয়। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার ব্যবহার করে দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তিনি এই নীতি দেশের নিরাপত্তা ও শক্তি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডের সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে টেকসই প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য উপাদান, ট্রাম্পের নিরাপত্তা যুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সম্পদগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য অপরিহার্য।
ট্রাম্প একটি টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে, যেখানে তিনি অ্যাটলান্টিকের সঙ্গে কথা বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্য দেশগুলোকে নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং তিনি নিজে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নীতি ও ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়টি অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
ডেনমার্কের সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কী হবে, তা নির্ধারণে বহু আলোচনার প্রয়োজন হবে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অবস্থানকে পুনরায় পরীক্ষা করার দরকারীয়তা তুলে ধরেছে, যেখানে আর্কটিকের সম্পদ ও ভেনেজুয়েলার তেল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে থাকবে।



