মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালের বিপিএল ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে জয়ী করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ তিন ওভারে ২৫ রান দরকারি লক্ষ্য ছিল, যেখানে তিনি ১৮ ও ২০তম ওভারে মাত্র ছয় রানই ছেড়ে এক উইকেট নেন। তার এই পারফরম্যান্সের পর দলীয় ক্যাপ্টেন নুরুল হাসান প্রকাশ্যে বললেন, “মোস্তাফিজের ওপর আমাদের আস্থা ছিল, এবং তিনি তা প্রমাণ করেছেন।”
মোস্তাফিজের ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ আশিকুর রহমান তাকে প্রথমবার দেখেন। তখনই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ তাকে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে নিয়ে আসেন। আশিকুর জন্য তখন মোস্তাফিজের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি, তবে এক দশক পরে তিনি স্বীকার করেন, “মোস্তাফিজের মানসিকতা অপরিবর্তিত; তিনি সবসময় স্বাভাবিকভাবে খেলেন এবং পুরোপুরি ১০০ শতাংশ দিতে চেষ্টা করেন।”
গত দুই দিনে মোস্তাফিজের চারপাশে নানা বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিসিসিআই (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএল থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দলে যুক্ত করেছিল। একই সময়ে বিসিবি (বিসিবি) জানায়, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতের মাটিতে ফেব্রুয়ারি মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে না এবং আইসিসিকে বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানায়। এসব সিদ্ধান্তের পরও মোস্তাফিজের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি।
বিপিএল ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান মোস্তাফিজের দক্ষতা নিয়ে মন্তব্য করেন, “মোস্তাফিজের কাছে ‘বিন্দাস’ আছে, তবে কখনো কখনো তার প্রতি কিছুটা বিরক্তি থাকতে পারে, কারণ তিনি যা ডেজার্ভ করেন তা আগে বেশি ডেজার্ভ করতেন। তবু শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “মোস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার, এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সেরা পারফরম্যান্স দেখা যায়।”
আশিকুর রাহমানের সিলেটের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত মন্তব্যগুলোও উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “মোস্তাফিজ কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত হন না, তিনি স্বাভাবিকভাবে সবকিছু গ্রহণ করেন এবং বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নেন। তার মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রি, এবং তিনি যেখানে খেলেন সেখানে ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেন।” এই দৃষ্টিভঙ্গি মোস্তাফিজের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের আইপিএল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, মোস্তাফিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখনও উজ্জ্বল। তিনি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বোলার হিসেবে পরিচিত এবং তার পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি। তাছাড়া, বিসিবি যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্থানান্তর বিবেচনা করছে, তা সরাসরি মোস্তাফিজের খেলায় প্রভাব ফেলেনি।
রংপুর রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবার ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবে, যেখানে মোস্তাফিজের ভূমিকা পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দলটি এখনো তার শীর্ষ ফর্মে রয়েছে এবং কোচিং স্টাফের মতে, “মোস্তাফিজের অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলা দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
সারসংক্ষেপে, মোস্তাফিজুর রহমানের ধারাবাহিকতা, মানসিক স্বচ্ছতা এবং মাঠে প্রদর্শিত দক্ষতা তাকে দেশের সেরা বোলারদের মধ্যে একটিতে পরিণত করেছে। তার পারফরম্যান্সের পেছনে কোচ, অধিনায়ক এবং সহকর্মীদের সমর্থন স্পষ্ট, আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার নাম এখনও উচ্চমার্গে অগ্রসর।



