গুলশানের বিএনপি নির্বাচনী পরিচালনা কার্যালয়ে রবিবার (৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত প্রথম কমিটি বৈঠকের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দেশের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া কোনো বাধা হিসেবে গণ্য করা যায় না।
বৈঠকের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দলকে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও ক্রোধের মুখে দেখা যায় এবং দেশের প্রযোজ্য আইনের অধীনে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত। এই নিষেধাজ্ঞা আইনগত ভিত্তিতে প্রযোজ্য হওয়ায় ঐ দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে না।
নাজরুল ইসলাম খান জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো দল স্বেচ্ছায় নির্বাচনে অংশ নিতে না চায়, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং তা কোনো আইনি বাধা নয়। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, অতীতেও এমন সময় ছিল যখন কিছু দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারত না, তবু সেই সময়কে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলা হতো না। এখন তিনি একই রকম শব্দ ব্যবহার না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি প্রতিনিধির মতে, বর্তমান সময়ে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী যেসব দলকে কোনো বিধিনিষেধের মুখে না পড়তে হয়, তাদের জন্য কোনো বাধা আরোপ করা হয়নি এবং অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব। তিনি বলেন, যদি কোনো দলকে বৈধভাবে বাদ দেওয়া হতো, তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হতো এবং নির্বাচনকে নির্দিষ্ট দল বাদে আয়োজনের চেষ্টা করা হতো।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আইন অনুসারে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ কারণের ভিত্তিতে বাতিল হতে পারে এবং তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিলের সুযোগ পায় এবং সংশ্লিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের আপত্তি জানাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কিছু প্রার্থীরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এবং তারা যথাযথভাবে আপিলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।
একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটারদের ভোটার আইডি সংগ্রহের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া নিজে নিজে কোনো অপরাধ নয়, তবে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা সংবেদনশীল বিষয় এবং এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি সরকারের দায়িত্বে জোর দিয়ে বলেন, এমন কার্যকলাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
নাজরুল ইসলাম খান শেষ কথা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনগতভাবে অনুমোদিত সব দলই স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভোটারদের স্বচ্ছ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পছন্দ প্রকাশের সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে কোনো দল যদি স্বেচ্ছায় অংশ না নিতে চায়, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃত হবে এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবে না।
বিএনপি নির্বাচনী কমিটির এই বক্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে আইনগত নিষেধাজ্ঞা এবং স্বেচ্ছা অংশগ্রহণের মধ্যে পার্থক্য বোঝা নির্বাচনের গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করবে।
সামগ্রিকভাবে, বিএনপি নেতার এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং ভোটার অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যা পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী নীতি ও প্রয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।



