ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার নতুন শাসক দেলসি রোড্রিগেজকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তিনি সঠিক পদক্ষেপ না নেন তবে তার শাস্তি মাদুরোর তুলনায় বড় হতে পারে। এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের সময় করা হয়। একই সময়ে, ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিউ ইয়র্কের আদালতে ড্রাগ ট্রাফিকিং ও অস্ত্র অপরাধের অভিযোগে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে তাকে “নারকো-সন্ত্রাসী” শাসন পরিচালনার জন্য দায়ী করা হয়েছে, যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, দেশটি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধের অবস্থায় নেই; তারা কেবল মাদকের চোরাচালানকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। রুবিও নিউ ইয়র্কের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছিলেন, যদি ভেনেজুয়েলা সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বজায় থাকবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসনকে “নিয়ন্ত্রণহীন” বলে বর্ণনা করে, পরিবর্তনকে কোনো নামেই ডাকা হোক, বর্তমানের চেয়ে ভাল হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনে অংশ নিতে এবং অর্থনৈতিক লাভ অর্জনে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্পের পূর্ববর্তী ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে “নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন” না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনা করবে।
সোমবার মাদুরোর নিউ ইয়র্কের আদালতে উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাকে ড্রাগ ও অস্ত্র অপরাধের জন্য দায়ী করে মামলা দায়ের করেছে। আদালতে তার উপস্থিতি ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ মাদুরোর সমর্থকরা এখনও ক্ষমতায় রয়েছে।
সেই একই দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্যারাকাসে আকাশে আক্রমণ চালায়, যার ফলে মাদুরো ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর কিছু ডেমোক্র্যাটিক আইনসভা সদস্য এটিকে “যুদ্ধের কাজ” বলে সমালোচনা করেন। তবে রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযান ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
কিউবার সরকার এই আক্রমণে ৩২ কিউবান যোদ্ধার মৃত্যু ঘোষণা করেছে এবং দুই দিনের জাতীয় শোকের ঘোষণা দিয়েছে। কিউবা দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর শাসনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, এবং এই ক্ষতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শোকের কারণ হয়েছে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রোড্রিগেজের নেতৃত্বে সরকার কীভাবে সাড়া দেবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদুরোর আদালতে উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের ফলে ভেনেজুয়েলায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যখন নতুন শাসককে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রুবিওয়ের মন্তব্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মাদক পাচার দমনেই কেন্দ্রীভূত, তবে ভেনেজুয়েলার সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে অতিরিক্ত চাপ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত, তবে ট্রাম্পের সতর্কতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে নতুন মোড় এনে দিতে পারে, যেখানে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং দেশীয় নেতৃত্বের কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



