প্যারিসের প্রান্তে অবস্থিত সায়েন্স পো সাঁ-জার্মেইন ক্যাম্পাসে গোপন তথ্য বিশ্লেষণ ও হুমকি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এই কোর্সটি ফ্রান্সের গোপন সেবার কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত, এবং এটি দেশের নিরাপত্তা নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোর্সের দায়িত্বে আছেন এক্সাভিয়ের ক্রেটিয়েজ নামের অধ্যাপক, যিনি স্বীকার করেন যে তিনি অনেক শিক্ষার্থীর প্রকৃত পরিচয় জানেন না। তিনি উল্লেখ করেন, গোপন সেবার কর্মীরা যখন এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়, তখন তাদের নাম ও পটভূমি প্রায়শই গোপন রাখা হয়, তাই তিনি প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন।
সায়েন্স পো সাঁ-জার্মেইন ক্যাম্পাসের পুরনো ২০শ শতাব্দীর ভবনগুলো গাঢ় রঙের এবং কঠিন গেট দিয়ে ঘেরা, যা গোপনীয়তার পরিবেশকে বাড়িয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের এই দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রায়শই গোপন সেবার প্রশিক্ষণস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কোর্সের নাম “ডিপ্লোমে সুর লে রেনসেইনমাঁ এ লে মাঁত্র গ্লোবাল” যা বাংলায় অনুবাদ করলে ‘গোপন তথ্য ও বৈশ্বিক হুমকি ডিপ্লোমা’ হয়। এই ডিপ্লোমা সায়েন্স পোর একাডেমি দ্যু রেনসেইনমাঁ, যা ফরাসি গোপন সেবার প্রশিক্ষণ শাখা, তার সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।
২০১৫ সালের প্যারিস সন্ত্রাসী হামলার পর ফরাসি সরকার গোপন সেবার কর্মী নিয়োগে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটায়। সেই সময়ে সরকার সায়েন্স পোকে অনুরোধ করে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম তৈরি করতে, যাতে নতুন গোপন এজেন্টদের মৌলিক জ্ঞান দেওয়া যায় এবং বর্তমান কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো যায়।
এই প্রোগ্রামটি শুধুমাত্র সরকারী কর্মীদের জন্য নয়, বড় বড় ফরাসি কোম্পানিগুলোর সিকিউরিটি স্টাফের জন্যও উন্মুক্ত। কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের এই কোর্সে ভর্তি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্তকরণে দক্ষতা অর্জন করতে চায়।
ডিপ্লোমার পাঠ্যক্রমে মোট ১২০ ঘন্টার ক্লাস কাজ অন্তর্ভুক্ত, যা চার মাসের মধ্যে ভাগ করা হয়। কোর্সের বিষয়বস্তুতে গোপন তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, হুমকি মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি অন্তর্ভুক্ত।
বহিরাগত শিক্ষার্থীদের জন্য, অর্থাৎ গোপন সেবার কর্মী এবং ব্যবসায়িক সিকিউরিটি স্টাফের জন্য, কোর্সের ফি প্রায় ৫,০০০ ইউরো, যা প্রায় ৫,৯০০ ডলার বা ৪,৪০০ পাউন্ডের সমান। এই খরচে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ উভয়ই পায়।
কোর্সের মূল লক্ষ্য হল যেকোনো প্রকারের হুমকি সনাক্ত করা এবং তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কৌশল গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোকে বিশ্লেষণ করে সমাধান প্রস্তাব করতে শিখে।
প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের বয়সের পরিসর ব্যাপক; সাধারণত ২০-এর দশকের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের গোপন সেবার কর্মীরা এই কোর্সে অংশ নেয়। এই মিশ্রণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও তাজা দৃষ্টিভঙ্গি উভয়ই আনে।
ফরাসি গোপন সেবা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পাঠকগণ যদি নিরাপত্তা বা গোপন তথ্য বিশ্লেষণে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করা উপকারী হতে পারে। আপনার মতামত কী, আপনি কি এমন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন?



