27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনস্টিভ কুওগান রয় কেনের জীবনী চলচ্চিত্রে মিক ম্যাককার্থি চরিত্রে, বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়ার...

স্টিভ কুওগান রয় কেনের জীবনী চলচ্চিত্রে মিক ম্যাককার্থি চরিত্রে, বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়ার প্রথম সাক্ষাৎেও উপস্থিত

ব্রিটিশ অভিনেতা স্টিভ কুওগান, যিনি ফুটবলে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন না, রয় কেনের জীবনী চলচ্চিত্র ‘সাইপান’‑এ আইরিশ জাতীয় দলের প্রাক্তন কোচ মিক ম্যাককার্থির ভূমিকায় অভিনয় করছেন। এই চলচ্চিত্রটি ২০০২ বিশ্বকাপের পূর্ব প্রস্তুতি সময় আইরিশ দলের সাইপান দ্বীপে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ শিবিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

কুওগান ছোটবেলায় গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলে বেড়ে ওঠার সময় ফুটবলের সঙ্গে তার সংযোগ মূলত রঙিন বইয়ে চিত্রাঙ্কন করা ও খেলোয়াড়দের কল্পনা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, তার শৈশবের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্মৃতি ছিল রঙের বইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের কানে গয়না, ঠোঁটে লিপস্টিক ও পাপড়ি আঁকা, যা তার পরিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষে সমর্থন জানাতে ব্যবহার করত।

ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহের অভাব সত্ত্বেও, কুওগান ‘সাইপান’ চলচ্চিত্রে অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন, কারণ তিনি আইরিশ বংশোদ্ভূত এবং মিক ম্যাককার্থি চরিত্রে তার নিজস্ব ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০২ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে রয় কেনের সঙ্গে কোচ ম্যাককার্থির মতবিরোধের ফলে দলের মধ্যে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা তখনকার মিডিয়ায় ‘সিভিল ওয়ার টু’ নামে উল্লেখ করা হয়।

শিবিরে কেনের তীব্র বিরোধের মূল কারণ ছিল কোচের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যা কেনের মতে তার খেলোয়াড়দের স্বায়ত্তশাসনকে সীমাবদ্ধ করছিল। শেষ পর্যন্ত কেন শিবির ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে আসে, আর এই ঘটনা আইরিশ ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। কুওগান এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে আইরিশ জাতির আত্মপরিচয় ও ব্রিটিশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরতে চান।

চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে কুওগান একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী হন: তিনি ডেভিড বেকহ্যাম, যিনি রয় কেনের সহকর্মী, সঙ্গে ছিলেন যখন বেকহ্যাম ভিক্টোরিয়া বেডফোর্ডের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেন। সেই সন্ধ্যায় দুজনের মধ্যে কথোপকথন ও হাসি-তামাশা চলছিল, যা পরবর্তীতে বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়ার বিবাহের সূচনা করে। কুওগান এই মুহূর্তটি চলচ্চিত্রের বাইরে ব্যক্তিগত স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ডেভিড বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়া বেডফোর্ডের প্রথম সাক্ষাৎটি ফুটবলের জগতে একটি রোমান্টিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। বেকহ্যাম তখনই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ তারকা, আর ভিক্টোরিয়া মিডিয়ার আলোয় ছিলেন। তাদের সাক্ষাৎ কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জনপ্রিয় গল্প হয়ে ওঠে। কুওগান এই ঘটনার উপস্থিতি নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করেন, যদিও তিনি নিজে ফুটবলে তেমন আগ্রহী নন।

‘সাইপান’ চলচ্চিত্রে রয় কেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন আইরিশ অভিনেত্রী এয়ানা হার্ডউইক। তিনি জানান, ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পূর্বে আইরিশ দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তার শৈশবের স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। পাঁচ বছর বয়সে তিনি স্টিকার বইয়ের মাধ্যমে ফুটবলের প্রতীকী চিত্রগুলোকে বেশি পছন্দ করতেন, যা তার পরবর্তীতে এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়।

চলচ্চিত্রের শিরোনাম ‘সাইপান’ দ্বীপের নাম থেকে নেওয়া, যেখানে আইরিশ দল ২০০২ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে অংশগ্রহণ করেছিল। শিবিরের সময় দলের মধ্যে উত্থাপিত মতবিরোধ ও বিভাজন, বিশেষ করে কোচ ম্যাককার্থি ও রয় কেনের মধ্যে সংঘর্ষ, আইরিশ ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। চলচ্চিত্রটি এই ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি আইরিশ জাতির আত্মপরিচয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরতে চায়।

প্রযোজকরা উল্লেখ করেন যে, ‘সাইপান’ শুধুমাত্র ফুটবলের একটি ডকুমেন্টারি নয়, বরং একটি মানবিক গল্প, যেখানে খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতিফলন দেখা যাবে। কুওগান, যিনি নিজের বংশধর হিসেবে আইরিশ পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন, এই প্রকল্পে তার অভিনয়কে একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।

‘সাইপান’ চলচ্চিত্রের মুক্তি দর্শকদেরকে ২০০২ সালের আইরিশ ফুটবলের ঐতিহাসিক মুহূর্তে ফিরে নিয়ে যাবে, যেখানে রয় কেনের তীব্র স্বভাব ও কোচ ম্যাককার্থির কঠোর শাসনব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলে দলের মধ্যে ‘সিভিল ওয়ার টু’ নামে পরিচিত একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা আজও আইরিশ ফুটবলের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য।

স্টিভ কুওগান, যিনি পূর্বে কমেডি ও নাটকীয় ধারায় কাজ করেছেন, এখন এই ঐতিহাসিক চরিত্রের মাধ্যমে নতুন দিক অন্বেষণ করছেন। তার অভিনয় শৈলী ও আইরিশ বংশের সংযোগ এই চলচ্চিত্রকে একটি অনন্য দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। দর্শকরা আশা করতে পারেন একটি সমৃদ্ধ, বাস্তবসম্মত ও আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা, যা ফুটবলের সঙ্গে সঙ্গে মানবিক দিকও তুলে ধরবে।

‘সাইপান’ শীঘ্রই বড় পর্দায় আসবে এবং ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ দর্শক উভয়েরই মনোযোগ আকর্ষণ করবে। কুওগান ও হার্ডউইকের পারফরম্যান্স, পাশাপাশি বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়ার প্রথম সাক্ষাতের স্মরণীয় মুহূর্ত, চলচ্চিত্রকে একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা করে তুলবে। এই প্রকল্পটি আইরিশ ফুটবলের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments