ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থা বিবিসির স্বাস্থ্য‑বিষয়ক পডকাস্ট “What’s Up Docs”‑এ সমান জোড়া ড. ক্রিস ও ড. জ্যান্ড ভ্যান টুলেকেন স্বাস্থ্য‑সচেতনতা নিয়ে প্রচুর তথ্যের মধ্যে কোন পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। দুজনেই চিকিৎসক এবং টুইন হওয়ায় শৈশব থেকেই একই শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, ফলে তারা একসাথে বিজ্ঞান‑ভিত্তিক বিশ্লেষণকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে পারছেন।
পডকাস্টের মূল উদ্দেশ্য হল জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিকের ভুল ধারণা ও অতিরিক্ত উদ্বেগ দূর করা। এ জন্য তারা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বর্তমান গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন এবং শোনোয়াদেরকে বাস্তবিক পরামর্শ দেন। সিরিজের এক পর্বে তারা তিনটি স্বাস্থ্য‑সংক্রান্ত বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেগুলোর প্রতি অতিরিক্ত চিন্তা করা প্রয়োজন নেই।
প্রথম উদাহরণটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যাপারে। এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল যে মস্তিষ্কে এক চামচের সমান মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হতে পারে। ক্রিস এই অনুমানকে দুই-তিনটি লেগো ব্লকের সমান হিসেবে তুলনা করেন, যাতে শোনোয়াদের সহজে ধারণা করতে পারে। তবে পরবর্তী পর্বে বিশেষজ্ঞ ড. স্টেফানি রাইটের বিশ্লেষণ প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে মূল গবেষণার পদ্ধতি প্লাস্টিকের পরিমাণকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেখিয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ছোট প্লাস্টিক কণিকা পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে ভারী ধাতু বহন করতে পারে, আর প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদান হরমোনের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি সত্ত্বেও ভ্যান টুলেকেন ভাইরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে প্লাস্টিকের সংস্পর্শের পরিমাণ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ করা অর্থহীন, কারণ প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সর্বত্র উপস্থিত।
তারা উল্লেখ করেন, আমাদের পোশাকের ফাইবারে, বাড়ির নির্মাণ সামগ্রীতে, খাবারের প্যাকেজিংয়ে এবং এমনকি পানির পাইপলাইন ও বোতলেও প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। তাই একা একা প্লাস্টিক দূর করার চেষ্টা করা বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। ক্রিস এক সময় পডকাস্ট রেকর্ডিংয়ের আগে চোপিং বোর্ড বদলাতে, তুলা বা উলের পোশাক কিনতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পারেন যে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এত বিস্তৃত যে ব্যক্তিগত স্তরে সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব নয়।
এই উপলব্ধি শোনোয়াদেরকে অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্য‑সচেতনতা বাড়ায়। যদিও মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না, তবু দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বড় স্তরে নীতি‑নির্ধারণে দৃষ্টি দেওয়া বেশি কার্যকর।
ভ্যান টুলেকেন ভাইদের পডকাস্টের মূল বার্তা হল, স্বাস্থ্য‑সংক্রান্ত তথ্যের অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে কোন বিষয়গুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা চিহ্নিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগকে কমিয়ে আনা। এভাবে শোনোয়ারা নিজেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং মানসিক চাপ কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
আপনার দৈনন্দিন রুটিনে কোন স্বাস্থ্য‑সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করছেন? পেশাদার পরামর্শের ভিত্তিতে বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।



